ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক সফর সমাপ্ত করে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পাকিস্তানের রাজধানী ত্যাগ করেন। প্রস্থানের পূর্বে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সংশ্লিষ্ট বৈঠকে কোনো কার্যকর সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তেহরান ওয়াশিংটনের উপস্থাপিত প্রস্তাবসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে “বার্থ ট্যুরিজম” বা সন্তান জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ প্রক্রিয়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা সংগঠিত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও দমন করতে নতুন বিশেষ অভিযান শুরু করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় “বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ” চালুর কথা জানিয়েছে, যার আওতায় ভিসা জালিয়াতি ও গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করা হবে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমান নীতির অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সন্তান জন্ম দেওয়া নিজে অবৈধ নয়; তবে ভিসা আবেদন বা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রতারণা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান শিবির জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতিতে সীমাবদ্ধতা আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দীর্ঘদিনের আইনি নজির এই অধিকারকে সমর্থন করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান কাঠামোকে কেন্দ্র করে “বার্থ ট্যুরিজম” বাড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয়তা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করলেও ইরান মার্কিন শর্ত মানতে সম্মত হয়নি। ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও মূল ইস্যুতে মতপার্থক্য থেকেই গেছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করেছিল, যা এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন না করায় আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে সীমিত রাখা। সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স জানান, আলোচনায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এলেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ফলে ২১ ঘণ্টাব্যাপী এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। বৈঠক শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক মহলে এই অচলাবস্থাকে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনার ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে নির্মাণাধীন ভবনে দেয়াল ধসে মোহাম্মদ ইউসুফ (২৬) নামে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জম হোসেন। নিহত ইউসুফ সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র তিন মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনে বৈদ্যুতিক কাজ করছিলেন। এসময় হঠাৎ দেয়াল ধসে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ইউসুফ বিবাহিত ছিলেন এবং তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।