রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ব্যবসায়ীদের জন্য তালিকাভুক্ত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে এখন থেকে অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও গাইডলাইন নির্ধারণ করা হবে, যাতে অবৈধ দখল ও অগোছালো বাজার ব্যবস্থা বন্ধ করা যায়।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত উদ্যোগ টেকসই করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রাস্তায় বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, নইলে নগর ব্যবস্থাপনা টেকসই করা সম্ভব নয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিপুল বকেয়া ও অবৈধ সংযোগের কারণে নেসকোতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নেসকো সূত্রে জানা গেছে, শহরের ২২টি ক্যাম্পে স্থাপিত ২৪টি সরকারি মিটার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ হচ্ছে না। চলতি এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পরে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পাওয়ার পর ক্যাম্পবাসীদের নিজ নিজ বিল পরিশোধের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বকেয়া দ্রুত বাড়তে থাকে। সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি মিটার থাকলেও ক্যাম্পের ভেতরে ব্যাপকভাবে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ঘরে সরাসরি লাইনের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র বলছে, অবৈধ সংযোগ সচল রাখতে অনিয়মিত লোড ব্যবস্থাপনা করা হয়, ফলে বিদ্যুৎ অপচয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এসব ক্যাম্পে ছোট কক্ষেই একাধিক ফ্যান, লাইট, টিভি ও ফ্রিজ ব্যবহার করা হলেও বেশিরভাগ সংযোগই মিটারবিহীন। নেসকো সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিমুল ইসলাম সেলিম জানান, কেন্দ্রীয় মিটার থাকলেও পৃথক মিটার বসাতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে কাজ করতে হলেও পরিস্থিতি অনেক সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কিছু অগ্রগতি হলেও বাসাবাড়ি পর্যায়ে মিটার স্থাপন এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিনা বিল ব্যবহারের অভ্যাস সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সমাধানে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদনগর এলাকায় “ব্যাক টু স্কুল” কর্মসূচির আওতায় এ আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওব্যাট কানাডার অর্থায়নে এবং সিপিইউ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে ১৭০ জন শিক্ষার্থীকে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, খাতা, কলম, ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলেন। ওব্যাট কানাডা বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. ইরফান আজম জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আয়োজকরা বলেন, এই কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী ম্যারাথন ‘রান ফর ওয়াটার ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে গিয়ে ম্যারাথনটি শেষ হয়। আয়োজনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ২০০ জন তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মী। আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মাটির কলস বহন করে প্রতীকীভাবে পানির সংকট তুলে ধরেন। স্থানীয় যুব সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম এ আয়োজন করে, যেখানে সহযোগী হিসেবে ছিল একশনএইড বাংলাদেশসহ ৩০টির বেশি সংগঠন। ম্যারাথনে প্রথম স্থান অর্জন করেন গাবুরার জি.কে সাব্বির হোসেন, দ্বিতীয় হন বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন এবং তৃতীয় হন সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। এটি শুধু উন্নয়ন নয়, একটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়। তারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আয়োজকরা বলেন, এই কর্মসূচি শুধু ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পানির অধিকারের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ।