জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম রাজনৈতিক আচরণবিধি ও পারস্পরিক সৌজন্যের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে একটি ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভদ্র’ রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, সংসদীয় কার্যক্রমে দলটির সদস্যরা নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলেন এবং অন্যান্যদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ প্রদর্শন করেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে হয়রানি বন্ধ এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থান জোরদারের আহ্বান জানান।
স্পিকার আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী কোনো আচরণে রূপ না নেয়। তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি সংযম, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পবিত্র হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনার পর প্রথম হজ ফ্লাইট সফলভাবে সৌদি আরব-এ অবতরণ করেছে, যা চলতি মৌসুমের আন্তর্জাতিক হজ যাত্রা কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে মোট ৪১৯ জন হজযাত্রী ছিলেন। বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাগত জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন এবং হজ কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলাম। পাশাপাশি কনসুলেট ও হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা প্রদান করেন। যাত্রীদের ফুল ও প্রয়োজনীয় রিফ্রেশমেন্ট কিট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়, যা সরকারের চলমান হজ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
চিহ্নিত আওয়ামী চক্র বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন বিভাগের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নামার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরএসএ)। সেবার মান ত্বরান্বিত করাসহ বিদ্যমান ভাবমূর্তি ধরে রাখার প্রশ্নে অপপ্রচারে লিপ্ত ছদ্মবেশী এই আওয়ামী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনের এক বিবৃতিতে এ দাবির কথা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো বিআরএসএ সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমান এবং খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে রেজিস্ট্রেশন বিভাগ আওয়ামী চক্রের কাছে জিম্মি ছিল। সম্প্রতি এই চক্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে। এফ আওয়ামী সুবিধাভোগী এসব গুপ্ত চক্র বিভিন্ন অখ্যাত ও নাম সর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে মিথ্যা ও গুজব তথ্য ছড়িচ্ছে। এরা সাংবাদিক নামধারী এক শ্রেণির চিহ্নিত চাঁদাবাজ। রেজিস্ট্রেশন বিভাগের চৌকস, মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের চরিত্র হরণ করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে তারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ এনে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তাকে জড়িয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে যা ইচ্ছা তাই লেখে যাচ্ছে। কোনো প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়াই, এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনে কারো কোনো বক্তব্য না নিয়ে অনলাইনে এসব অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে যেমন : হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন, তেমনি আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, রেজিস্ট্রেশন বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণসহ কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এছাড়া তদন্তে কেউ অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়াও প্রচলিত আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিআরএস এরকম যে কোনো উদ্যোগকে সব সময় স্বাগত জানিয়ে আসছে। ফলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে তদন্ত করতে পারে। তবে একই সঙ্গে বিআরএসএ আইনমন্ত্রীসহ সরকারের কাছে জোরালোভাবে এ দাবিও জানাতে চায় যে, যারা হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এহেন অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে শিগ্গিরই বিআরএসএ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস ভার্চুয়াল সামিটে বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি জরুরি, সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আন্তর্জাতিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। কোনো দেশ এককভাবে এ সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়—এ জন্য আঞ্চলিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, রেশনিং ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৯৭০ দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক উন্নয়ন অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরসহ একাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন।