নীলফামারীতে অনলাইন ভিত্তিক ফুয়েল কার্ড চালুর পর জ্বালানি পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমে গেছে ক্রেতার উপস্থিতি।
জেলা প্রশাসন গত ২২ এপ্রিল ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি ও ত্রুটির কারণে অনেক আবেদন অনুমোদন পায়নি, ফলে জ্বালানি গ্রহণকারীর সংখ্যা কম রয়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ জানান, ১৫ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে মাসে ২০ লিটার এবং কার/মাইক্রোবাসে ৫০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, আগের মতো ভিড় নেই এবং কোনো অস্থিরতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে গত ২৩ এপ্রিল সৈয়দপুর উপজেলা-এ একটি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি না পেয়ে কিছু যানবাহন মালিক সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান হোসেন জানান, জেলার ৩৮টি ফিলিং স্টেশনেই পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ মজুদ রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না বলেও তিনি জানান।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তথ্যমতে, মাইক্রোবাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বরিশালের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বড় পরিসরের প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। চলতি মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যের টুইন-পিট ল্যাট্রিন স্থাপন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে কমিউনিটি লেট্রিন নির্মাণ করা হবে। জানা গেছে, জেলার ১০টি উপজেলায় ৪০টি কমিউনিটি লেট্রিন নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ৮টি উপজেলায় দরিদ্র পরিবারের জন্য ৬ হাজারটি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রতিটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা। এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ডিপিএইচই সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়ন এবং শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য-শিক্ষা-যোগাযোগ কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিপিএইচই বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান তরফদার জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে জনগণের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হবে।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত স্থানীয় আবুবকর ছিদ্দিক মিঞার নাতি এবং মৃত আফছার মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের কাজ শেষে তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাত ৯টায় স্থানীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।