রংপুরে ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে সচেতন করার জন্য শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা, ভোটের জনসচেতনতা প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ কালো কালি দিয়ে লেখা হলেও তার অক্ষরগুলো ছিল জুলাই শহীদদের রক্তে লেখা। এটি মনে রাখলেই সনদ ভুলবেন না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার—এই তিনটি আকাঙ্ক্ষা গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা।”

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। তাই ভোটারদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্কার ছাড়া যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদের স্বৈরাচারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের কর্মকর্তা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা। এ ছাড়া রংপুর বিভাগের আট জেলার মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা অংশ নেন।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের শ্রেনীখালী গ্রামে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইরাবুনিয়া খাল পুনঃখনন না হওয়ায় স্থানীয় শতাধিক কৃষকের ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খালের পলি জমে ভরাট হওয়ার কারণে পানি চলাচল বন্ধ, যার ফলে কৃষকরা পানির অভাবে গোসল, রান্না এবং ফসল চাষের কাজেও ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খালের দুই প্রান্তে কয়েকটি অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। একটি অংশে প্রভাবশালী স্থানীয়রা মাছ চাষ করছেন, আর ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য কবির আহম্মেদ পল্টু অন্য একটি অংশ দখল করে মাছ চাষ করে আসছেন। ফলে খালের পানি চলাচল আরও সীমিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা উর্দ্ধতন প্রশাসনের নিকট খালটি পুনঃখননের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খাল খনন করলে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং তিন ফসলি চাষ সম্ভব হয়ে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। ৪নং ওয়ার্ড সাবেক ইউপি সদস্য কবির আহম্মেদ পল্টু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত খাল দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। ভরাট খালের কারণে তিনি খাদ্যের জন্য সামান্য মাছ রেখেছিলেন এবং এটি বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নয়। খাল পুনঃখনন হলে তা পুরো গ্রামের কৃষকের জন্য উপকারে আসবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে বাসযোগ্য রাখতে নদী-খাল-বিল, বনজঙ্গল ও জলাশয় রক্ষা জরুরি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার মিঠাখালি ইউনিয়নের সাহেবেরমেঠ গ্রামের মাদুরপাল্টা বাজার ব্রিজ সংলগ্ন খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় খাল খনন সময়ের দাবি। নদী ও খাল দখল-দূষণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নূর আলম শেখসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ও বেলুন উড়িয়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ইলিশের প্রজনন ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসে চাঁদপুর জেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এ দুই মাস কোনো প্রকার মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।