বরিশালে জাল টাকা চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক কিশোরের নাম হৃদয় হাওলাদার (১৭)। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেরে সড়কের লোহারপুল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সফিক হাওলাদারের ছেলে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ফিরোজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত রোববার রাতে অটোরিকশা ভাড়ার টাকা পরিশোধের সময় হৃদয় অটো মালিক সাব্বিরকে ৫০ টাকার ১০টি নোট দেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সেগুলো দিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে গেলে নোটগুলো জাল বলে সন্দেহ হয়। পরে হৃদয়কে তল্লাশি করে আরও ৯০টি জাল ৫০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হৃদয়কে জাল টাকাসহ আটক করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি আগেই গ্রেফতার হওয়া জাল টাকা চক্রের সদস্য।
প্রবাদে আছে ‘সরকার কা মাল দড়িয়ামে ঢাল’ । দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশনের পাওয়ার হাউস থেকে শতাধিক চোরাই বৈদ্যুতিক লাইন ছড়িয়ে রয়েছে স্টেশনের মুদি দোকান, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক বাড়ি ও স্কুলে। এসব অবৈধ সংযোগের বিদ্যুৎ বিল মাসিক রেল কর্তৃপক্ষ গুনছে। প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ধরা পড়ছে না এই চোরাই সংযোগের সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালেদা বেগম ও শহিদ মিয়ার মতো অনেকের ঘরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চলছে, কিন্তু বৈদ্যুতিক মিটার নেই। তাদের বিদ্যুৎ বিল মিটার না দিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বপন কুমার মন্ডল বা ‘স্বপন’—যিনি পাওয়ার হাউস ডিপার্টমেন্টের সহকারী ওয়্যারিংম্যান—এখন পর্যন্ত এসব চোরাই লাইনের তদারকি ও বিল উত্তোলন করছেন। সুবিধাভোগীরা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে চায় না। স্বপন জানান, স্থানীয় কয়েকজনের শেল্টার থেকে এই লাইনগুলো চলে, তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে এবং মাসিক বাটোয়ারায় অংশগ্রহণ করে। স্টেশন মাস্টার আব্দুল বাতেন বলেন, পাওয়ার হাউস ডিপার্টমেন্ট আলাদাভাবে পরিচালিত হয়। তিনি চোরাই লাইনের বিষয়ে আগে জানতেন না, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। স্থানীয়রা বলছেন, এত বছর ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবস্থাপনা চলায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার মামলায় চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে হাজির ছিলেন নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন এবং আরও ২৩ হাজতি আসামি। সরকারি কৌঁসুলি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ধার্য দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। মামলার শুনানিতে আসামি চিন্ময়কে নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতির আবেদন করা হয়, যা রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানায়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ ও সনাতনী জাগরণ জোটের সঙ্গে যুক্ত চিন্ময় দাসের নির্দেশনায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আইনজীবী আলিফকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় আরও কয়েকজন লাঠি, কিরিচ ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যা ২৫ আগস্ট গ্রহণ করা হয়। মামলায় নিহতের বাবা বাদী, এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ আরও পাঁচটি মামলা যুক্ত আছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সালাহউদ্দিন রুমি (৫১) ও সাইফুল ইসলাম বাপ্পি (৫৬)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে চারটি বিদেশি শটগান, দুটি বিদেশি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হোরারবাগ চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ভাই-বোন সম্পর্কের। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এডহক ৪৮ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহউদ্দিন আল মামুনের নির্দেশে এবং বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধানের নেতৃত্বে বেঙ্গুরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও সেনাসদস্যদের তৎপরতায় তারা ধরা পড়ে। পরে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। সতর্ক অনুসন্ধানে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সিলিং, আলমিরার গোপন বাক্স, গোয়ালঘরের খড়কুটোর নিচে এবং নির্মাণাধীন ভবনের বালির নিচে লুকানো চারটি স্থানে আরও অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধান জানান, গ্রেফতার সালাহউদ্দিন রুমির বিরুদ্ধে ছয়টি এবং সাইফুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে চারটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। তারা নির্বাচনের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল এবং নিজেদের তৈরি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র চট্টগ্রামের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রকে বিক্রি করত।