নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুড়াকুটি ঠিকরীপাড়া গ্রামে একটি পরিবারে তিন সদস্যই প্রতিবন্ধী। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় তারা চরম দুর্দশায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পরিবারের একমাত্র পুরুষ আজহারুল ইসলাম (৩২) ১০ বছর বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে তার পা দুটি চিকন হয়ে জোড়া লেগে যায়, ফলে বসতেও পারেন না। তার নাওয়া-খাওয়া, শৌচ ও দৈনন্দিন কাজ সবই করতে হয় মা জেন্নাতুন (৭০) এবং বড় বোন আতরা বানু (৪৫)-কে। এই দুইজনই শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বড় বোন আতরা বানুর মানসিক সমস্যা থাকায় সংসারের ভার আরও বেড়ে গেছে।
বাস্তুভিটা ছাড়া পরিবারের কাছে মাত্র ১৫ শতক ফসলি জমি আছে। এতে সামান্য ফসল ফললেও সংসারের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। পরিবারটি মাঝে-মধ্যেই আত্মীয়স্বজনের সহায়তা নিয়ে কিছুটা চাল-ডাল ও অর্থ পায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতোটাই দুর্বল যে, আজহারুলের বড় ভাই বাহাদুর আলী, যিনি ১৫ বছর আগে একই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে পারিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আজহারুলকে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়। প্রতি তিন মাসে তিনি দুই হাজার সাত শত টাকা ভাতা পান। তবে তার মা ও বোন এখনও কোনো ভাতার আওতায় আসেননি।
আজহারুল জানান, নিয়মিত জ্বর, পা ফুলে যাওয়া ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। অনেক সময় টাকার অভাবে ঔষধ নিতে পারেন না, ফলে পা স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। তিনি বলেন, “আমাদের মতো পরিবারের ওপর এমন অভিশাপ যেন কখনো নেমে না আসে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে মেনে নিয়েছি, কিন্তু সংসারের জীবিকা নিয়ে সীমাহীন দুশ্চিন্তায় আছি। আগামী দিনগুলোতে কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করব, তা নিয়ে ভাবি।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আবেদন করলে পরিবারের বাকি দুই সদস্যকেও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এর ফলে তারা ভাতা এবং অন্যান্য সহায়তার সুবিধা পেতে পারবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই অবরোধ শুরু হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে একটি তেলবাহী লরির সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা বা সহায়তার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নামেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দায়ী লরি চালককে দ্রুত গ্রেফতার, আহত শিক্ষার্থীর পূর্ণ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে দাবি পূরণে স্পষ্ট আশ্বাস না মেলায় তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশালে ব্যাটারিচালিত যানবাহন খাতকে বিআরটিএ-এর আওতায় এনে লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটসহ ৯ দফা দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল করছে, যা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেও এই বৃহৎ শ্রম খাতটি কোনো পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত নীতিমালার আওতায় আসেনি, ফলে শ্রমিকরা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। তারা দাবি করেন, বিআরটিএ-এর অধীনে এই যানবাহনের নিবন্ধন, বৈধ লাইসেন্স প্রদান, চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট রুট পারমিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপদ চলাচলের জন্য ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে একাধিক নীতিমালা ও খসড়া প্রণয়ন করা হলেও সেগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালে প্রস্তাবিত বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান তারা। তাদের মতে, শুধু সিটি কর্পোরেশনের স্টিকার বা সাময়িক নিয়ন্ত্রণ দিয়ে এই খাতকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন আইনগত কাঠামো ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শ্রমজীবী মানুষ এখনো উপেক্ষিত। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে মামলা ও হয়রানির ঘটনাও ঘটছে বলে তারা অভিযোগ তোলেন। তারা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া সময়ের দাবি। তাই ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে পরিকল্পিতভাবে নীতিমালার আওতায় এনে আধুনিক ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় এবং ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে মারধর করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অধ্যক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাকে স্বপদে বহাল রাখলেও সংশ্লিষ্টরা তাকে নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাধা দিয়ে আসছিল। তিনি আরও জানান, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির কাছে যেতে চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে টানা-হেঁচড়া করে মারধর করেন। পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত নন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।