ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে চারটি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বি মোট ২১ জন প্রার্থী তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতীক হাতে পান।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভোটপ্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হবে। জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার আগে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের এই আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সহযোগীকে আটক করেছে। অভিযানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি একনলা বন্দুক ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দয়াল বাহিনীর সদস্য আব্দুল হালিম রসদ সরবরাহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। এরপর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান যৌথভাবে খুলনার দাকোপ থানার শিবসা নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। আটক আব্দুল হালিম (৩৬), শ্যামনগর থানার বাসিন্দা, দীর্ঘদিন ধরে দয়াল বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করে আসছিলেন। উদ্ধারকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে রেলওয়ের জমি দখল করে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করা এবং বর্তমানে বৈধ লাইসেন্সধারী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অত্যাচারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্। এ ঘটনার কারণে তিনি গত দুই দিন ধরে দোকান খুলতেও পারছেন না। ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ্ জানান, ফকিরহাট উপজেলা মোড়ে রেলওয়ের জমিতে তিনি গত ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। এই জমিতে ভাড়া নেওয়ার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু রাসেল দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করতেন। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আব্দুল্লাহ্ নিজে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ করলে চক্রান্ত ও হুমকির মাত্রা বেড়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে বিবাদী আবু রাসেল ও তার সহযোগী বিশ্বাস শাজ্জাদ হোসেন সাজু চাঁদা দাবি করছেন এবং বিভিন্ন সময় দোকান থেকে মালামাল লুট করার ঘটনাও ঘটাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ তাঁকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে দোকান খালি করার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জোরপূর্বক দোকান দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা আব্দুল্লাহ্ বলেন, “আমি রেলওয়ের বৈধ লাইসেন্সধারী। সরকারি জমি নিজের দখলে রাখতে আমি নিয়ম মেনে সব কাজ করেছি। কিন্তু এই প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে আমি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। তারা আমার রুটি-রুজির একমাত্র সম্বলটি কেড়ে নিতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার এবং শান্তিতে ব্যবসা করার নিশ্চয়তা চাই।” অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা গেলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, “উক্ত বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বৈধ ব্যবসায়ী তার দোকান নিরাপদে চালাতে পারে এবং অনিরাপত্তার এই চিত্র বন্ধ হয়।
মাদারীপুরের নতুন এলাকায় রাতভর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ অন্তত শতাধিক দেশীয় হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকার জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতা আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের সময় তারা টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের সদস্যদের মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অতীতেও এই দুই পক্ষের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে। আগের অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা জব্দ করা হয়েছিল। রবিবার রাতের সংঘর্ষের পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আটটি শেল নিক্ষেপ করে। মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনা নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।