বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনায় কিছু বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার সাধারণ নির্বাচন, রেফারেন্ডাম ও পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে পরিচালনা হওয়ার কারণে গণনায় স্বাভাবিক কিছু দেরি হতে পারে। তিনি গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো ঘটনা নিয়ে গুজব ছড়ানো এড়াতে সাধারণ জনগণকে আগেভাগে তথ্য দেওয়া জরুরি।
প্রেস সচিব আরও জানান, নতুন নির্বাচনী পদক্ষেপগুলো সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করতে কিছু সময় লাগতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপার মুদ্রণ কাজ বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের জটিলতা সমাধান হওয়ায় সমস্ত আসনে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রায় শেষপ্রান্তে। নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করার পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনভুক্ত ১৫টি আসনে কে কত ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন—তা নিয়ে জনমনে বাড়ছে কৌতূহল। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার আসনগুলোতে বিজয়ের ব্যবধান ছিল ভিন্নমাত্রিক—কোথাও বড় ব্যবধান, কোথাও আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ঢাকা–৯ বিএনপির হাবিবুর রশিদ ১,১১,২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। বিজয়ের ব্যবধান: প্রায় ৫৮ হাজার ভোট। ঢাকা–১৮ বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ১,৪৪,৭১৫ ভোটে জয়ী। ব্যবধান: ৩৩,৪১৮ ভোট। ঢাকা–৬ বিএনপির ইশরাক হোসেন ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। ব্যবধান: ২৩,১৫৩ ভোট। ঢাকা–১২ জামায়াতে ইসলামীর মো. সাইফুল আলম ৫৩,৭৭৩ ভোটে জয়ী। ব্যবধান: ২২,৮১০ ভোট। ঢাকা–১৫ জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ৮৫,১৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ব্যবধান: ২১,৬১৪ ভোট। ঢাকা–১৪ জামায়াত প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম ১,০১,১১৩ ভোটে জয়ী। ব্যবধান: ১৭,৭৯০ ভোট। ঢাকা–৫ জামায়াতের মোহাম্মদ কামাল হোসেন ৯৬,৬৪১ ভোটে নির্বাচিত। ব্যবধান: ৯,১৫০ ভোট। ঢাকা–৭ বিএনপির হামিদুর রহমান ১,০৪,৬৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী। ব্যবধান: ৬,১৮৩ ভোট। ঢাকা–৮ বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ৫৯,৩৬৬ ভোটে জয়। ব্যবধান: ৫,২৩৯ ভোট। ঢাকা–১৭ বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ৭২,৬৯৯ ভোটে বিজয়ী। ব্যবধান: ৪,৩৯৯ ভোট। ঢাকা–১৬ জামায়াতের মো. আব্দুল বাতেন ৮৮,৮২৮ ভোটে জয়ী। ব্যবধান: ৩,৩৬১ ভোট। ঢাকা–১০ বিএনপির শেখ রবিউল আলম ৮০,৪৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত। ব্যবধান: ৩,৩০০ ভোট। ঢাকা–৪ জামায়াত নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭,৩৬৭ ভোটে জয়ী। ব্যবধান: ২,৯২০ ভোট। ঢাকা–১৩ বিএনপি সমর্থিত ববি হাজ্জাজ ৮৮,৩৮৭ ভোটে জয়ী। ব্যবধান: ২,৩২০ ভোট। ঢাকা–১১ জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী। ব্যবধান: ২,০৩৯ ভোট।
ভোটের সময় টাকা বহনের নির্দিষ্ট সীমা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সোর্স ও ব্যবহারের বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোটের সময় টাকা পরিবহনের সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। জানা যায়, এদিন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, টাকা যদি বৈধ হয় এবং এর উৎস বৈধভাবে দেখানো যায়, তাহলে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ব্যক্তিগত কাজে যত খুশি টাকা বহন করা যাবে। তবে ওই টাকা যদি ভোটে কাউকে প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়টি দেখবে ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’। টাকা যদি অবৈধ হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের ২৯৯টি আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯০ শতাংশে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আগারগাঁওয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও জানান, সারাদেশে ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে আছেন। কমিশনার বলেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় নিরাপত্তা তৎপরতা কখনো হয়নি এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা মোকাবিলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগেই ৮৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা নাশকতার উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারত