নীলফামারীতে বিএনপির প্রার্থী তুহিনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুকে ঘিরে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নীলফামারী সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জড়ো হন।
যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দুপুরের দিকে একটি বড় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে শহীদ রুবেল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন বহন করেন।

মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নীলফামারী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী তুহিন বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম স্বপ্না, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম, সদস্য সচিব সাইফুল্লাহ রুবেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মৌলভীবাজারের শেরপুরে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ‘ধানের শীষ’ মার্কায় ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে শেরপুর উপজেলার আইনপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি দেশ পুনর্গঠন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ভোট চুরির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে তারেক রহমান জনসভার মঞ্চে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন। জনসভায় তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার সময় দেওয়া ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’—এই ঘোষণার পুনরুল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই তাঁর মূল পরিকল্পনার অন্যতম অংশ। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিদেশি ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা বিদেশে গিয়ে সম্মানজনক ও উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গেলে আয় কম হয়, কিন্তু প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে আয় বাড়ে। বিএনপি সরকার গঠন করলে সেই সুযোগ এ দেশের মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হবে। তারেক রহমান চা-শ্রমিক অধ্যুষিত মৌলভীবাজার অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে বলেন, জেলার প্রায় ১৩০টি চা বাগানের শ্রমিকরা, বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা, অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের আয় সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বিএনপি সরকার গঠন করলে চা-শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বা নগদ অর্থ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সম্মানীর ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত এসব মানুষ সমাজের দুঃখ-সুখে পাশে থাকেন, তাঁদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, দেশে আবারও ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ডিজিটাল মাধ্যম ও এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে এবং ব্যালট পেপার গায়েব করার মতো অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকার রক্ষায় ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই জনসভায় মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল— এই সাত উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে অংশ নেন। জনসভাস্থল আইনপুর মাঠ দুপুরের আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পর্যায়ক্রমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় পঞ্চগড় দুই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মাহমুদ হোসেন সুমনকে কেন্দ্রীয় বিএনপি বহিস্কার করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুমনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতারা জানান, সুমন পঞ্চগড়ের তৃণমূল ও বিএনপির স্থায়ী নেতা নয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে তার কোন সক্রিয়তা দেখা যায়নি। বোদা ও দেবীগঞ্জের তৃণমূল নেতা অভিযোগ করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সুমন দলের সমর্থক এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন হ্যাপি বলেন, মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের পক্ষে দলের সকল স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। সুমন বহিস্কার হওয়ার ফলে তিনি আর বিএনপির সদস্য নয়। মাহমুদ হোসেন সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি ধরেননি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ে তৈরি হচ্ছে নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ। এতে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রার্থী সারজিস আলম। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে উত্তরবঙ্গ দিয়ে তার নির্বাচনী সফর শুরু করবেন। সফরের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে পঞ্চগড় পৌরসভার চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বড় ধরনের নির্বাচনী জনসভা। শীর্ষ নেতাকে বরণ করতে এবং জনসভা সফল করতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই চিনিকল মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। মাঠজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, মাইকিং, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রস্তুতিসহ সার্বিক আয়োজন চলতে দেখা যায়। জনসভাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও জোটপ্রার্থীদের পক্ষে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানাতে জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। ১০ দলীয় জোটের নেতারা জানান, জনসভা শান্তিপূর্ণ ও সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হবে এবং নির্বাচনী বার্তা সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে যাবে।