ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনি আচরণবিধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৫৬ ময়মনসিংহ–১১ (ভালুকা) আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী, প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন— মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম (গণ অধিকার পরিষদ, ট্রাক), ফখর উদ্দিন আহমেদ (বিএনপি, ধানের শীষ), মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম (স্বতন্ত্র, হরিণ), জাহিদুল ইসলাম (এনসিপি, শাপলা কলি) এবং মো. মোস্তফা কামাল (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা)।
ভালুকা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১০৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন।
“সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে আদালত চত্বরে দিবসটির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আদালত চত্বরে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) এবং জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আলী মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলুল হক বারী, পারিবারিক আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাকিম ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাস এবং সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বক্তারা বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারিভাবে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনুষ্ঠানে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং সেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
নীলফামারীতে “সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে দিনব্যাপী র্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহমুদুল হক। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জিয়াউদ্দিন মাহমুদ, জেলা ও দায়রা জজ আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বসুনিয়া, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান শামীমসহ অনেকে। সভায় জানানো হয়, লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫৩৩টি এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) মামলা দায়ের, ৪০৫ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং ৫১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্যানেল আইনজীবীদের মধ্যে এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন ও এ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা ইতিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় এক নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই প্রক্রিয়াটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ পর্যায় থেকে উৎপাদন পর্যায়ে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আইনসম্মত ধাপ, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম-২৩৫ ক্ষুদ্র পেলেট আকারে ফুয়েল রডে সংযোজিত হয় এবং একাধিক রড মিলিয়ে তৈরি হয় একটি অ্যাসেম্বলি। রূপপুরের ইউনিট-১ এর রিয়্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হবে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি দ্বারা শীতলীকৃত অবস্থায় পরিচালিত হবে। ফুয়েল লোডিংয়ের পূর্বে প্রয়োজনীয় অপারেশনাল প্রস্তুতি, যন্ত্রপাতি পরীক্ষণ, দক্ষ জনবল নিশ্চিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি বিশেষায়িত যন্ত্রের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে এবং সাবক্রিটিক্যাল অবস্থা বজায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে শিগগিরই পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে অগ্রসর হবে কেন্দ্রটি, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।