ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাসান মোল্লা নামে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকায় হযরতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের হাসিমপুর-কলাবাড়িয়া এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহামদকে ১০ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফেতার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়পুরা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে রায়পুরা থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে দৈনিক নিখাদ খবরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান। গ্রেছতারকৃত জুনায়েদ উপজেলার চান্দেকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। ঘটনা জানাজানি হলে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত জুনায়েদ। পরে মামলার প্রায় ৩০ ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত জুনায়েদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় রায়পুরা থানা পুলিশ। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মজিবুর রহমান বলেন, অপরাধ করে আইনের কাছ থেকে কেউ রেহায় পাবে না। সে যতোই ক্ষমতাধর হোক না কেন। আমরা ইতিমধ্যে জুনায়েদকে গ্রেফতার করেছি, আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি যেন হয় সেটাই আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে প্রার্থনা করবো। তবে জনগনের উদ্দেশ্য আমি বলবো অতি উৎসাহী হয়ে কোন ধরনের আক্রমণাত্মক কাজ করা হতে বিরত থাকবেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার যেন সঠিক বিচারটা পায় আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করছি। এর আগে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে আপত্তিকরভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করে এবং পরে তাকে ধর্ষণ করেন মাদরাসার মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ। ঘটনার পর সকালে অসুস্থতা বোধ করলে ওই ছাত্রী তার খালার বাড়ির রায়পুরা পৌর শহরের মৌলভীবাজারের বাসায় চলে যায়। সেখানে তার অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ঘটনার বিস্তারিত ওই ছাত্রী তার খালাকে জানাই। পরে ওই ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রীকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরইমধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মাধ্যমে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীদের তোপের মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদরাসা একটি সাঁটার ভাঙচুর করে এবং ছাত্রী ধর্ষণের বিচার দাবি জানান। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলে। পরদিন (রোববার ২৬ এপ্রিল) ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পারিবারিক বিরোধ ও বিয়ে সংক্রান্ত মতবিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্র জানায়, নিহত সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)-এর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭) প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনাটি মাদকসংক্রান্ত নয় বরং পারিবারিক দ্বন্দ্বই এর মূল কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ছোট ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে তাকে হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পিতাকে রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণসহ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাপ্ত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হবে।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার এক সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। অভিযুক্ত সেলিনা পারভীনকে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া-গৌরিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এর আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা নিচ্ছেন সেলিনা পারভীন। পরবর্তীতে সেই টাকা নিজের ব্যাগে রাখতে দেখা গেলে ঘটনাটি দ্রুত জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই প্রশাসন তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করে। একই সঙ্গে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।