২৩ বছরের ট্রিনিটি রডম্যান নারী ফুটবলের ইতিহাস গড়লেন। ফুটবলের কেরিয়ারে মাত্র কিছু বছর কাটলেও, ট্রিনিটি রডম্যান নারী ফুটবলে বিশ্বসেরা আয়কারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নারী সুপার লিগের (এনডব্লুএসএল) ওয়াশিংটন স্পিরিটের সঙ্গে তিন বছরের নতুন চুক্তি করে তিনি প্রতি বছরে বোনাসসহ ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) উপার্জন করবেন। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ পর্যন্ত তিনি ক্লাবের হয়ে খেলবেন।
রডম্যানের আগের চুক্তি ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ায় তিনি ফ্রি এজেন্ট ছিলেন। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিনি উচ্ছ্বসিত, বলেন,
“এটা আমার জীবনের অন্যতম বড় ঘটনা, যা সব কিছু বদলে দেবে।”
ট্রিনিটি সাবেক বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যানের কন্যা এবং ২০২১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্পিরিটে যোগ দিয়ে উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র নারী জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদ হিসেবেও খেলবেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রিনিটি স্পেনের আইতানা বোনমাতিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা নারী ফুটবলারের মর্যাদা অর্জন করেছেন।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে রোববার (২৫ জানুয়ারি) টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দল। লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ফাইনাল ম্যাচে মালদ্বীপের অগ্রগতিকে দ্রুত বিপরীতমুখী করে বাংলাদেশ দখল নেন। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও লিপি আক্তার হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া কৃষ্ণা রানী সরকার, নিলুফা আক্তার নীলা ও নৌশিন জাহানসহ একাধিক খেলোয়াড় গোল উৎসবে অংশ নেন। বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শুরু করে ভারতের বিপক্ষে ৩-১, ভুটানের সঙ্গে ৩-৩ ড্র, নেপালকে ৩-০, শ্রীলঙ্কাকে ৬-২ এবং পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপার পথে এগিয়ে যায়। শেষ ম্যাচের বড় ব্যবধানে জয়ের মাধ্যমে দলের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একজন কর্মকর্তা সফরে আসছেন। আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ও সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তোলে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে জানানো হয় এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই আইসিসির প্রতিনিধি সফরটি নির্ধারিত হয়। এর আগে দুই আইসিসি কর্মকর্তার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও একজন ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা জটিলতায় আসতে পারেননি। আজ মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিশ্বকাপ ভেন্যু, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভলিবলের মতো দেখতে হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলা সেপাক টাকরো। ভলিবল যেখানে হাতে খেলা হয়, সেখানে সেপাক টাকরো খেলতে হয় পুরোপুরি পা দিয়ে। এই ব্যতিক্রমী খেলায় অল্প সময়েই জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য দেখিয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরা। তারা জাতীয় নারী দলে খেলে বিদেশেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের শহর থেকে দূরের বাঙালিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত সেপাক টাকরোর অনুশীলন করে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন জাতীয় সেপাক টাকরো দলের কোচ ববি রায়, যিনি সৈয়দপুরের ছেলে ও মেয়ে উভয় দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কোচ ববি রায় জানান, সেপাক টাকরোর উৎপত্তি মালয়েশিয়ায়। পরে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে খেলাটি জনপ্রিয় হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩০টি জেলায় এই খেলার আঞ্চলিক দল রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২২ সালে বাঙালিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সালামের উদ্যোগে সৈয়দপুরে সেপাক টাকরোর যাত্রা শুরু হয়। ওই দল থেকেই আইরিন আক্তার বর্তমানে জাতীয় নারী দলে খেলছেন এবং রাব্বি মণ্ডল জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় পুরুষ দলে। ববি রায় আরও জানান, তিনি নিজে জাতীয় দলের হয়ে নেপাল ও থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মহিলা সেপাক টাকরো দলের কোচ। গত অক্টোবরে ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় নীলফামারী জেলা দল চ্যাম্পিয়ন এবং পুরুষ দল রানার্সআপ হয়। বর্তমানে বাঙালিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সৈয়দপুর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ এবং লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজেও সেপাক টাকরোর চর্চা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অচিরেই খেলাটি সৈয়দপুরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়বে।