ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের ভারী বর্ষণের পর সংঘটিত ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, এবং আরও ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিম বান্দুং এলাকার পাহাড়ি ঢালে মাটি ধসে পড়ার কারণে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাটির অনিয়মিত স্তূপের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এবার উদ্ধার অভিযানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের ভারী বর্ষণের পর সংঘটিত ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, এবং আরও ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিম বান্দুং এলাকার পাহাড়ি ঢালে মাটি ধসে পড়ার কারণে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাটির অনিয়মিত স্তূপের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবার উদ্ধার অভিযানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
ইরানে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়লেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমিত বা আকস্মিক বিমান হামলায় দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটার বাস্তব সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং শক্তিশালী নেটওয়ার্কভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পারস্পরিকভাবে সংহত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক বলয়ের সমন্বিত কাঠামো বড় ধরনের বাহ্যিক চাপও সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ফলে নেতৃত্ব বা নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলা শাসন পরিবর্তনের বদলে অভ্যন্তরীণ সংহতি আরও জোরদার করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক ইঙ্গিতের দ্বৈততা স্পষ্ট হলেও এটিকে সুসংহত কৌশল নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ ও সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা। আঞ্চলিক বাস্তবতায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প সীমিত—ইসরায়েল কঠোর অবস্থান চাইলেও সৌদি আরব, কাতার ও ওমান উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য শাসন উৎখাত নয়, বরং ইরানের আচরণে পরিবর্তন আনা—বিশেষত পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা। এ ক্ষেত্রে সামরিক হামলার চেয়ে লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক চাপ, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে ফাটল তৈরিই তুলনামূলক কার্যকর পথ হতে পারে। আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিক বলপ্রয়োগ সাধারণত রাষ্ট্রীয় সংহতি দুর্বল না করে বরং শক্তিশালী করে তোলে। ইরানে টেকসই পরিবর্তন আসতে পারে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমেই।
কলকাতায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মেলা ও তৃতীয় ‘প্রজ্ঞা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। রোববার (৪ জানুয়ারি) তাপসকুমার পাল একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নগরীর উত্তমমঞ্চে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এই দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের পাঁচজন বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিসাধককে তাঁদের আজীবন সাধনা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আন্তর্জাতিক প্রজ্ঞা পুরস্কার–২০২৫’ প্রদান করা হয়। এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—শ্রীলঙ্কার কলম্বো ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস বিভাগের প্রখ্যাত বেহালাবাদক অধ্যাপক (ড.) রুউইন রঙিত ডায়াস, প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বিদুষী বিভা সেনগুপ্ত, মণিপুরী নৃত্যের কিংবদন্তি গুরু অধ্যাপক কলাবতী দেবী, খ্যাতিমান পাখোয়াজগুরু অধ্যাপক পণ্ডিত চঞ্চল ভট্টাচার্য এবং এসরাজ ও হারমোনিয়াম বাদক অধ্যাপক পণ্ডিত দেবপ্রসাদ দে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ভায়োলিন অর্কেস্ট্রায় রবীন্দ্রসংগীত ‘আলো আমার আলো’ এবং গৌড়ীয় নৃত্যে গুরুবন্দনার মাধ্যমে। পরবর্তীতে অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বালন, সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রসংগীত, মণিপুরী নৃত্য ও শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ৯৩ বছর বয়সী বিদুষী বিভা সেনগুপ্তের পরিবেশনা, যা দর্শক-শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে একাডেমির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বিশেষ অর্কেস্ট্রা ‘গ্লোবাল অর্কেস্ট্রা: বাংলার যোগ’, যা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বেহালাশিল্পী তাপসকুমার পাল। আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন বিশ্ব সংস্কৃতি অঙ্গনে বাংলাদেশের সঙ্গে উপমহাদেশের সৃজনশীল ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।