চট্টগ্রামের বায়েজিদে কসাই মো. আনিসকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ছয় অংশে কেটে খাল ও ভাগাড়ে ফেলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আনিসকে প্রথমে এক নারী বাসায় ডেকে নিয়ে মাথায় মসলা বাটার নোড়া দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে ওই নারী, তাঁর ভাই ও আরও এক যুবক যৌথভাবে আনিসের গলা কেটে হত্যা করেন এবং দেহের দুই হাত ও পা আলাদা করে ছয়টি টুকরো বানিয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে ফেলে দেন।
স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পলিথিনে মোড়া হাতের অংশ কুকুর টানার সঙ্গে দেখে থানায় খবর দেয়। হাতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে আনিসের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর মুঠোফোন কললিস্টের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ ও অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেফতার নারী আনিসের সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে সম্পর্কের দাবি করেছেন, তবে নিহতের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী এটি আক্ষেপ নয়, বরং টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
বায়েজিদ থানার ওসি জানান, মামলার প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং গ্রেফতার তিনজনকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পারিবারিক বিরোধ ও বিয়ে সংক্রান্ত মতবিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্র জানায়, নিহত সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)-এর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭) প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনাটি মাদকসংক্রান্ত নয় বরং পারিবারিক দ্বন্দ্বই এর মূল কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ছোট ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে তাকে হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পিতাকে রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণসহ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাপ্ত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হবে।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার এক সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। অভিযুক্ত সেলিনা পারভীনকে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া-গৌরিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নতুনভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এর আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা নিচ্ছেন সেলিনা পারভীন। পরবর্তীতে সেই টাকা নিজের ব্যাগে রাখতে দেখা গেলে ঘটনাটি দ্রুত জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই প্রশাসন তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ জারি করে। একই সঙ্গে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জনরোষ ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগের মুখে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমকে বদলি করা হলেও শান্ত হননি ভুক্তভোগীরা। কেবল বদলি নয়, বরং তাঁর মেয়াদে হওয়া অনিয়মগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং আটকে রাখা ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বাঘহাটা মৌজার ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ মামলা (বিবিধ মোকদ্দমা নং ৩১/২০২৪)। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মো. আবদুর রউফ গাজী ও তাঁর পরিবারের পাওনা কয়েক কোটি টাকা গত কয়েক মাস ধরে আটকে রেখেছিলেন এই কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত দখলদার সুধীর চন্দ্র সাহার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তিনি প্রকৃত মালিকদের ‘আপোশ’ করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বদলি নিয়ে সাধারণের প্রতিক্রিয়া গত ১৮ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হলেও, নরসিংদীর সাধারণ মানুষ একে ‘পুরস্কার’ হিসেবে দেখছেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম জানান, "একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং নথিপত্র আটকে রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে, তখন তাঁকে কেবল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে সরিয়ে দেওয়া সমাধান নয়। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।" এদিকে ভুক্তভোগী মো. আবদুর রউফ গাজী ও অন্য ওয়ারিশগণ গতকাল ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পুনরায় যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাহমুদা বেগম নরসিংদী ত্যাগের আগে বাঘহাটা মৌজার ফাইলটি এমনভাবে জটিল করে রেখে গেছেন যেন প্রকৃত মালিকরা হয়রানির শিকার হন। ইমারতের ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুধীর সাহার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বৈঠকের বিষয়টিও এখন আলোচনায় উঠে আসছে। প্রশাসনের বক্তব্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এডিসি (রাজস্ব) যোগদানের পর ঝুলে থাকা ফাইলগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তবে ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, মাহমুদা বেগমের প্রভাবাধীন সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়। উল্লেখ্য, মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি নথিতে নির্দিষ্ট হারে 'পার্সেন্টেজ' নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বড় প্রকল্পের অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় করতে তিনি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। সেকারণে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।