চাকরির প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক-যুবতী
বর্তমানে চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন হয়ে উঠেছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া চাকরির প্রতারণা। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শতাধিক যুবক-যুবতী এক ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে হয়েছেন প্রতারিত। চাকরির আশায় তারা টাকা দিয়েও এখন কাজের মুখ দেখেননি। বরং হারিয়েছেন সময়, অর্থ ও আত্মবিশ্বাস।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। একটি কথিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ফেসবুক ও বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইটে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বলা হয়—“বিনা অভিজ্ঞতায় ২০,০০০ টাকা বেতনে কর্পোরেট অফিসে চাকরি, শুধু ইন্টারভিউ দিলেই হবে।” এই বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে অনেক তরুণ-তরুণী আবেদন করেন। পরে ফোনে ডেকে আনা হয় অফিসে, নেওয়া হয় ৫০০–২০০০ টাকা “প্রসেসিং ফি” নামে।
ইন্টারভিউ নেওয়ার নামে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয়, কথিত প্রশিক্ষণের নামে আরও টাকা চাওয়া হয়। কেউ কেউ মাসখানেক কাজ করেও বেতন পাননি। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির অফিস হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফোন নম্বরগুলো বন্ধ, আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পলাতক।
এই ধরনের ঘটনা দেশে নতুন নয়। প্রতিনিয়ত চাকরির নামে এ ধরনের প্রতারণা বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বিপদে পড়ছেন সদ্য গ্র্যাজুয়েট তরুণ-তরুণীরা, যাদের হাতে অভিজ্ঞতা নেই, আর স্বপ্ন রয়েছে অনেক।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করেন। সম্পদ গোপনের অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া তার বৈধ আয় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা হলেও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্বামীর বিরুদ্ধে ও সহায়তার অভিযোগ মামলায় অভিযোগ করা হয়, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(2) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম মামলাকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “আমাদের বৈধ ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে। উল্লেখ, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় থাকা কালে অবৈধ আয়ে নগরীর বহরমপুরে বহুতল বাড়ি করেন। গোয়েন্দা শাখায় পরিদর্শক মীর্জা আব্দুস সালাম ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি, আটক ব্যানিজ্যসহ মাসিক মাসোহারা উত্তোলনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হয়।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বিরাজ আলী (৪৭) দুর্বৃত্তদের চাপাতি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গোরস্তান এলাকায় গরুর ঘাস কাটার পর বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী পালিয়ে যায়। বিরাজ আলীকে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বড় ভাই আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় বা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ ছিল না। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার প্যাদা (৫৫) এবং তার ভাই বাচ্চু প্যাদা (৪৫) আটক হয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে ছয়টি ককটেল (হাতবোমা) এবং চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ৬ পদাতিক ব্রিগেড এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া অভিযানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ককটেল ও অস্ত্রগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অভিযান নির্বাচনের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।