রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনিবার গভীর রাতে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত যুবক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলে। পরে কৌশলে তাদের হোটেল বা ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করত। সেই ভিডিও পরে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় বা বিভিন্ন অনৈতিক দাবির চেষ্টা করত সে।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর এক পর্যায়ে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। তিনি জানান, তার অজান্তেই ঘরে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে, পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ধরনের ঘটনা সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়। বিশেষ করে তরুণীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কারো সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক না হলে এমন ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এবং ব্ল্যাকমেইলের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
সাইবার অপরাধের এই ধারা রোধে প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মনিটরিং এবং ভুক্তভোগীদের সহজে আইনি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফকিরহাট থেকে অপহৃত ১৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা রাফছাকে পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন শেখ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত রাফছা ফকিরহাট উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া গ্রামের আ: রশিদ খানের মেয়ে। গ্রেফতার নয়ন শেখ খুলনার টুটপাড়া এলাকার আসলাম শেখের ছেলে। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেন জানান, নয়নের স্ত্রী শিশুটিকে কোলে নেওয়ার কথা বলে পরিবারের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় শিশুটি ফেরত না আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে নয়ন মোবাইল ফোনে শিশুটিকে ফেরত দিতে টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো: নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং নয়নকে গ্রেফতার করে ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার “মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসন ক্লিনিক পরিদর্শন করে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী দম্পতি রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা জানান, শুক্রবার রাতেই প্রসূতি হাবিবা সুলতানা ক্লিনিকে ভর্তি হন। রবিবার রিলিজ নেওয়ার সময় ২২ হাজার টাকার বিল না দিতে পারায় চিকিৎসক তাদের ওপর বিকল্প অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নবজাতক বিক্রির পরিকল্পনা করতে থাকে, যেখানে বাচ্চার দাম থেকে কিছু টাকা ডাক্তার রাখবে এবং বাকি পরিবারের হাতে দেয়া হবে। স্থানীয়রা ক্লিনিকের নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরে আসলে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্লিনিকের দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবল ও দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লিনিককে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জে কলেজ শিক্ষককে রিকশায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীদের হাতে লুটপাট, সোনালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পূর্ব ইসদাইর এলাকার রাবেয়া হোসেন উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এই আক্রমণ চালানো হয়। ভুক্তভোগী ফারজানা আফরোজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক, জানান, ছেলে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে তিন মোটরসাইকেলবাহিত ছিনতাইকারী তাঁর রিকশার গতিকে আটক করে। এরপর দুইজন ধারালো চাপাতি মুখে ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাঁর কাছে থাকা একটি মোবাইল, একটি পার্স ও দেড় ভরি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্তে তৎপর রয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এটি নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তার ওপর ছিনতাই-হামলার ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে একটি।