দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা বলেছেন, দেশের রাজনীতি নতুন এক সংকটের দিকে এগোচ্ছে। তাদের মতে, বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে নাকি স্বৈরতন্ত্রের দিকে যাবে। বুধবার (১১ মার্চ) রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন দলটির শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আখতার হোসেন এবং নাহিদ ইসলাম। বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হলে দেশে আবারও আন্দোলন ও বিপ্লবের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন। তারা আরও বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সামনে রয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের বয়কট করার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!’—যা প্রকাশের পরপরই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিক্রিয়া, মন্তব্য ও শেয়ার দেখা গেছে। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শীর্ষক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। দুই নেতার ধারাবাহিক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপি মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র দুটি শব্দের পোস্টে সাড়া ফেলেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে ইফতারের পর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি লিখেছেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”। এই সংক্ষিপ্ত পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। মাত্র ৪৩ মিনিটের মধ্যে পোস্টটি আড়াই লাখ লাইক, ২০ হাজার কমেন্ট এবং প্রায় ৬,৫০০ শেয়ার সংগ্রহ করেছে। সমর্থক ও সমালোচক উভয় পক্ষই এই পোস্ট নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জোর সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। দলটির পক্ষ থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা ছয়টায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদে স্বাক্ষর করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই সনদ রাজনৈতিক সংলাপ এবং দেশের সংবিধানগত প্রক্রিয়ার সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের মনোনীত পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের কোনো অভিযোগ থাকবে না। প্রশাসন পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটোয়ারী উপজেলার বামনকুমার রাখালদেবী হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বাবা ও ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। সারজিস আলম জানান, তিনি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রতীক ‘শাপলা কলি’তে ভোট দিয়েছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের কয়েক দিনে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। নির্বাচনের দিনে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, কোথাও অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার হলে প্রথমে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হবে। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের ১৫৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলে জনগণের রায় মেনে নিতে তারা প্রস্তুত। তার দাবি, নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঢাকা-৮ আসনকে সৌদি আরবের মদিনার মতো সমাজ হিসেবে গড়ে তুলবেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে এই অঙ্গীকার দেন তিনি। গণসংযোগের শুরুতে পাটোয়ারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় তাঁর আসনের প্রার্থী ও আন্দোলনে শহীদ হওয়া শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। তিনি বলেন, শহীদ হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সকলকে কাজ করতে হবে। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দু’দলই দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সকলকে সহাবস্থানে থেকে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। জিয়ারতের পর শাহবাগে গিয়ে ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও তাদের সমস্যা শোনেন তিনি। ঢাকা-৮ আসনে পাটোয়ারীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ৪০০ গজে মোবাইল নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা অগোছালো এবং জনগণের তথ্যাধিকার হরণের প্রচেষ্টা। নাহিদ দাবি করেছেন, এ বিধি অবিলম্বে পরিবর্তন না হলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে মিডিয়াকে ব্ল্যাকআউট করে ভোট কারচুপি করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশন যদি পক্ষপাতিত্বের চেষ্টা করে, তার ফলাফল ইতিহাসে মলিন দাগ হিসেবে থাকবে।” নাহিদ ইসলাম নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে আরও বলেন, দ্বারপ্রান্তে এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হরণের প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে এবং তা জনগণের রায়কে প্রভাবিত করতে পারবে।
মিডিয়াকর্মীদের পেশাগত সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা ছাড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে পূর্ণ পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা ন্যায্য সম্মানী ও প্রয়োজনীয় পেশাগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এটি কেবল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার ফল। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি সংবিধানস্বীকৃত ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য পেশা হলেও এখনো সাংবাদিকদের জন্য এমন কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর ফলে অনেক সময় আর্থিক চাপ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলে সাংবাদিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় বেতন কাঠামো ও সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থাকলেও সংবাদ, প্রশ্ন ও প্রতিবেদনে নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা অগ্রাধিকার পেতে হবে।
রংপুর-৪ আসনের ১১ দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর তিনি পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে আখতার হোসেনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং তার পরিবারসহ তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। ডায়েরিতে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, “নির্বাচনে প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে কালো টাকা ও পেশি শক্তি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। সম্ভবত এ ঘটনাও তার অংশ।” পীরগাছা থানা বিষয়টি তদন্ত করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ব্যর্থ হলেও ৫ আগস্টের মতো সাফল্য এড়াবে না; এবারও বিজয় নিশ্চিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাড্ডায় নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমরা ৫ আগস্ট যেমন সফল হয়েছিলাম, ১২ ফেব্রুয়ারি তেমনি সফল হব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-১১ আসনে শিক্ষাসেবা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণরূপে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি হাই স্কুল নেই, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাত্র ১৫টি, হাসপাতাল নেই, বর্ষাকালে প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। নাহিদ বলেন, ‘এলাকার খালগুলো দখল ও বালু ফেলায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, নদী ও জলাশয়ও ধ্বংস হয়েছে।’ নাহিদ ইসলাম আরও জানান, এই এলাকার উন্নয়ন ব্যর্থতার মূল কারণ রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং ভূমিদস্যুদের দ্বারা শতাধিক খাস জমি ও জলাশয় দখল। ফলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারাচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোটের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জনসাধারণের দাবী ও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের জিআরপি মোড়ের স্মৃতি অম্লান চত্বর থেকে শুরু করে প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। গণসংযোগে এনসিপির সৈয়দপুর উপজেলা আহ্বায়ক মঞ্জুর আলম, সদস্য সচিব মো. আজাদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন মানিক, পৌর আহ্বায়ক জাবেদ আক্তারী, সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ও যুগ্ম সদস্য সচিব জুবায়ের মাহাদীসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ পথচারী, যানবাহন চালক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব, উপকারিতা ও ভোট প্রদানের পদ্ধতি সহজ ভাষায় তুলে ধরেন। তারা জানান, শহরের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের গণসংযোগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “একটি পক্ষ বুলেটের রাজনীতি করছে, আমরা ব্যালটের রাজনীতিতে তাদের পরাজিত করব।” তিনি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণকে ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, গত নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও ভুয়া ভোট হয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আবার ব্যালট বাক্সে অনিয়মের চেষ্টা করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না। হাসনাত আরও বলেন, ভোট পবিত্র আমানত, শত সহস্র শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এটি অর্জিত। ভোট কেনাবেচা করা বা কালো টাকার প্রলোভনে সাড়া দেয়া চলবে না। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “টাকা নিলে পাঁচ বছরের জন্য গোলাম, বিনা টাকায় ভোট দিলে সেবা পাবেন।” জনসভায় তিনি মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। বলেন, “কিছু মিডিয়া মালিক দলীয় দিকপালনায় সংবাদ পরিচালনা করছেন, জনগণই সত্য সংবাদ হয়ে উঠতে পারে।” হাসনাত দেশের নির্বাচনকে স্বচ্ছ, দুর্নীতি ও তদবিরমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, দলের ভেতরে দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের কারণে ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাত ৮টার পর পথসভা করায় পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলমের প্রতিনিধি এনসিপি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার পর মাইক ব্যবহার করে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পথসভা চলছিল। এ কারণে নির্বাচন আচরণবিধির ১৭(২) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভা পরিচালনা ও মাইক ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আকাশ বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুরের পীরগাছায় এক নির্বাচনী জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, গত ১৭ মাসে কথিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র হিসেবে জনগণ চাঁদাবাজি ও লুটপাট প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে নতুন কোনো ‘প্ল্যান’ দেখার সময় আর নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শাপলা কলি মার্কার প্রচার সভায় বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল জাতীয়তাবাদের কথা বললেও বিদেশি নাগরিক ও ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছে। এসব ব্যক্তি নির্বাচিত হলে পুনরায় অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, বিভিন্ন সেবার নামে একাধিক কার্ড চালুর প্রস্তাব নতুন হয়রানি সৃষ্টি করবে। এর পরিবর্তে স্মার্ট এনআইডির মাধ্যমে একক প্ল্যাটফর্মে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেয় এনসিপি। রংপুর-৪ আসনে পরিবারতন্ত্র ও ভোটের সময় সুবিধা বিতরণের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এগারো দলীয় ঐক্যের প্রার্থী আখতার হোসেনের পক্ষে ভোট চান। সভায় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারাও বক্তব্য দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ‘জানাজা’ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়ায় এনসিপির নির্বাচনী পথসভায় তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি অলরেডি রাজনৈতিকভাবে মৃত। ১২ তারিখ হবে তাদের আনুষ্ঠানিক দাফন।” ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি ব্যতিক্রমীভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, বরং মৌলিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এসেছে। পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং কাউনিয়া-পীরগাছা আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, আসন্ন গণভোটে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করলেও তা কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জের জাফরপাড়ায় জুলাই বিপ্লবে নিহত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সজীব ভুঁইয়া বলেন, “এবারের গণভোটে দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রয়েছে। সরকারি সহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট পক্ষও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সক্রিয়। সার্ভে ফলাফল অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটই অনেক এগিয়ে আছে।” তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। “মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এবং কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।” এছাড়া সারাদেশে নির্বাচনি সংঘর্ষের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামের একাধিক নেতা নিহত হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি ধৈর্য ধরে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে যদি আগে থেকেই ঠিক করা থাকে কে প্রধানমন্ত্রী হবে বা কোন দল জিতবে, তবে ১১ দলীয় জোট যে-কোনো সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।” এ দিন শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর তিনি রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেনসহ কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর পদযাত্রা স্টেশন রোডের তেল পাম্পে গিয়ে পথসভায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির মূখ্য সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক এহতেশাম হক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। পথসভায় বক্তারা গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রীতম দাশের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণসহ চার দফা দাবিতে আবারও পঞ্চগড় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। দুপুর ১টার দিকে কর্মসূচিতে যোগ দেন পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দাবিগুলোর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা একই দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জোটের নেতাকর্মীরা। সেদিন পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি সাময়িক প্রত্যাহার করা হলেও বৃহস্পতিবার পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ১৯৭১ অস্বীকার করা হবে—এ ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অজ্ঞতাপ্রসূত। যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তারা নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচারণা ও উঠান বৈঠককালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি টানা ষষ্ঠ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সারজিস আলম বলেন, দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। জনগণ সংস্কার ও পরিবর্তন চেয়েছে বলেই এই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। সেই সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে জুলাই সনদ কার্যকর করার মাধ্যমে, আর তার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোট বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা কার্যত ফ্যাসিবাদী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে। তবে জনগণ আর কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেবে না। সারজিস আলম দাবি করেন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এ সময় জোটের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, এনসিপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের জনসংযোগ কর্মসূচিতে সহিংসতা ঘটেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনি নূরপাড়া এলাকায় একটি এতিমখানা পরিদর্শনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে, যা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এনসিপি অভিযোগ করেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই হামলায় জড়িত। এতে জোটের অন্তত দুই কর্মী গুরুতর আহত হন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী সময় পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এসব হামলা প্রমাণ করে, দেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ আসনে টানা চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও উঠান বৈঠক করেন। গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তথাকথিত ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতির ধারণা আর কার্যকর থাকবে না। জনগণ এবার নির্যাতন, দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রায় দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, দেশে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের পরিপন্থী। সারজিস আলম বলেন, হুমকি দিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। দেশের মানুষ এখন সচেতন, তারা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করবে। এ সময় জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।