ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ আসনে টানা চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও উঠান বৈঠক করেন।
গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তথাকথিত ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতির ধারণা আর কার্যকর থাকবে না। জনগণ এবার নির্যাতন, দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রায় দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, দেশে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের পরিপন্থী।
সারজিস আলম বলেন, হুমকি দিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। দেশের মানুষ এখন সচেতন, তারা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করবে।
এ সময় জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের বিশদ বিবরণে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও আর্থিক সম্পদের তথ্য—যা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নিপুণ রায় চৌধুরী। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত এ প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার নিজ নামে ৫০২ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না রয়েছে। পাশাপাশি তার স্বামী অমিতাভ রায়ের নামেও অতিরিক্ত ১০০ ভরি গয়নার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অলংকারের বাজারমূল্য বা অর্জনকালীন মূল্য হলফনামায় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; এগুলো উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বলে জানানো হয়েছে। হলফনামায় পেশাগত পরিচয়ে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে নিপুণ রায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া শেয়ার ও ব্যাংক আমানত থেকে বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, তার স্বামীকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, নিপুণ রায়ের নামে ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। তার মালিকানায় থাকা দুটি গাড়ির ক্রয়মূল্য ১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার নামে অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিপরীতে, তার স্বামীর নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটের তথ্য দেওয়া হয়েছে, যার ক্রয়মূল্য ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান হলফনামায় প্রকাশ করা হয়নি। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণীতে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও, উল্লিখিত গয়নার মূল্য অনির্দিষ্ট থাকায় বিষয়টি ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বিএনপি। আজ (সোমবার, ২০ এপ্রিল) মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর আগে দলটির পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড গত দুই দিনে প্রায় ৯০০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ সংক্রান্ত প্রচারিত তথ্যকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছেন। নিজের পোস্টে একটি ইংরেজি উদ্ধৃতি শেয়ার করে তিনি পরোক্ষভাবে গুঞ্জনকারীদের সমালোচনা করেন, যা রাজনৈতিক মহলে তার অবস্থান পরিষ্কার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। এমনকি দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের খবরও সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও দলীয় পর্যায় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় এবং রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আপাতত এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বাস্তবায়নের পর্যায়ে নেই।