ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ আসনে টানা চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও উঠান বৈঠক করেন।
গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তথাকথিত ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতির ধারণা আর কার্যকর থাকবে না। জনগণ এবার নির্যাতন, দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রায় দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, দেশে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের পরিপন্থী।
সারজিস আলম বলেন, হুমকি দিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। দেশের মানুষ এখন সচেতন, তারা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করবে।
এ সময় জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনের দিনে এনসিপি নেতা ও কর্মীরা তিনটি দাবি নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালেই মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রবেশপথে প্ল্যাকার্ড হাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তারা সংসদে তিনটি মূল দাবি জানান: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন, এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা। এদিকে, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে সকাল থেকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পদার্পণ শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানও উপস্থিত থাকেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা জনসমক্ষে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নতুন সংসদ জনগণের আস্থা রক্ষা করতে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন। বিরোধী দলের সদস্যরা শপথ নেওয়া ও সংবিধান রক্ষার জন্য সরকারী এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন যে রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন, ফলে তাঁর সংসদে অংশগ্রহণ আইনত বৈধ নয়। বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটি দেশের প্রথম সংসদ অধিবেশন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-কে বন্যার তহবিলের হিসাব জানতে চাইতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের বাইরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আয়োজন নিয়ে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি সম্মেলনস্থল থেকে আসিফ মাহমুদকে প্রশ্ন করতে থাকেন, “বন্যার তহবিলের হিসাব কোথায় পাওয়া যাবে? ফান্ডে দেওয়া অর্থের খোঁজ নেই।” প্রশ্নকারী নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং বন্যার তহবিল, এনসিপি নেতাদের দায়িত্ব এবং আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস নিয়ে অভিযোগ তোলেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঘটনার পটভূমিতে আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব আয়োজন করা হবে। আয়োজনটি ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিলের মাধ্যমে হবে। কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি এবং উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উৎসবের জন্য সাধারণ জনগণের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তরুণরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বন্যার তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে।
পঞ্চগড়ে চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা মুসলিম উদ্দিন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শালটিয়া পাড়া ঈদগাঁহ মাঠে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম উদ্দিন সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাওয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী ও বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি টোল পরিশোধকে কেন্দ্র করে বালু ও ট্রাক্টর ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে তার বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরদিন কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি আক্রোশমূলক ও ভিত্তিহীন। এতে তার ব্যক্তিগত সুনাম ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অভিযোগকারী প্রমাণ দিতে না পেরে ঘটনাটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী আনিসুর রহমান ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। মুসলিম উদ্দিন ঘটনার সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।