অপরাধ

অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁসের চক্র সক্রিয়, ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখায় অভিযান

Icon
জানিফ হাসান
প্রকাশঃ জুন ২৮, ২০২৫

দেশজুড়ে অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। বিশেষ করে চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে এই চক্র নতুন কৌশলে প্রতারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা (Cyber Crime Investigation Division)।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা মোবাইল অ্যাপ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন: টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ) এবং ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।

সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তানভীর হাসান বলেন, “এই চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণা আইনে মামলা হয়েছে।”

 

‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বিক্রি হতো ভুয়া প্রশ্নপত্র

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি মূলত দুটি ধাপে কাজ করত—প্রথমে তারা ফেসবুকে ‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন’ বা ‘সরকারি চাকরি প্রশ্ন ফাঁস’ নামে কিছু গ্রুপ চালু করত। সেসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করত, পরীক্ষার আগেই তারা “আসল প্রশ্নপত্র” দিতে পারবে।

দ্বিতীয় ধাপে, আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন চ্যাটে কথা বলে বিকাশ/নগদে টাকা সংগ্রহ করত। অনেক সময় তারা আগের বছরের প্রশ্ন বা সাজানো প্রশ্ন ‘নমুনা’ হিসেবে পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু ফেক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মাহবুবা হোসেন বলেন, “ভয়াবহ বিষয় হলো—তরুণ প্রজন্ম এখন অনলাইন প্রতারণাকে সহজলভ্য করে দেখছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজবের পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ।”

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শতাধিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করেছে। শুধু গত দুই মাসেই তারা প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে কোনো ধরনের লেনদেনে জড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাইবার হেল্পলাইনে (৯৯৯ বা সাইবার পোর্টাল) জানাতে বলা হয়েছে।

তাদের মতে, এই ধরনের চক্রকে প্রতিরোধ করতে হলে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়ে শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায়।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “প্রশ্নপত্র ফাঁস বলে কোনো ব্যবস্থা বা সংযোগ বাস্তবে নেই। কেউ এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করুন।”

 

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চক্রটি আরও বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় আরও কিছু সদস্যের খোঁজ চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএসপি দম্পতির সম্পদের পাহাড়, দুদকে মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করেন। সম্পদ গোপনের অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া তার বৈধ আয় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা হলেও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্বামীর বিরুদ্ধে ও সহায়তার অভিযোগ মামলায় অভিযোগ করা হয়, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(2) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম মামলাকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “আমাদের বৈধ ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে। উল্লেখ, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় থাকা কালে অবৈধ আয়ে নগরীর বহরমপুরে বহুতল বাড়ি করেন। গোয়েন্দা শাখায় পরিদর্শক মীর্জা আব্দুস সালাম ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি, আটক ব্যানিজ্যসহ মাসিক মাসোহারা উত্তোলনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হয়।

সিরাজুল ইসলাম রনি ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

৮ লাখ টাকা ঘুস না নিয়ে সাবেক শিক্ষককে পুলিশে দিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা

ছবি: প্রতিনিধি

নমুনা ব্যালট সহ যুব শক্তির আহ্বায়ক আটক, তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় ককটেল ও মাদক সহ এক ব্যক্তি আটক

প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে চাপাতির কোপে কৃষকদল নেতা রক্তাক্ত

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বিরাজ আলী (৪৭) দুর্বৃত্তদের চাপাতি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গোরস্তান এলাকায় গরুর ঘাস কাটার পর বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী পালিয়ে যায়। বিরাজ আলীকে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বড় ভাই আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় বা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ ছিল না। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজশাহী ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে অবৈধ অস্ত্র সহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দম্পতি গ্রেফতার

ছবি: প্রতিনিধি

জমি বিরোধে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

প্রতীকি ছবি

ফরিদপুরে ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যে সংসদ সদস্য প্রার্থীর মোটরসাইকেল চুরি

ছবি: প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদীতে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ককটেলসহ আটক

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার প্যাদা (৫৫) এবং তার ভাই বাচ্চু প্যাদা (৪৫) আটক হয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে ছয়টি ককটেল (হাতবোমা) এবং চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ৬ পদাতিক ব্রিগেড এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া অভিযানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ককটেল ও অস্ত্রগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অভিযান নির্বাচনের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

বরিশাল ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

গুম-হত্যা মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ছবি: প্রতিনিধি

ভোলায় নৌ-বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও গোলাবারুদ সহ দুই সন্ত্রাসী আটক

ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

0 Comments