বাংলাদেশ

খুন, সন্ত্রাস ও আতঙ্কের নগরী খুলনা

এক বছরে ৮৩ হত্যাকাণ্ড, নদী থেকে শতাধিক লাশ উদ্ধার

Admin জানুয়ারী ২, ২০২৬ 0

২০২৫ সালে খুলনা ছিল এক ভয়ংকর বাস্তবতার নগরী। শহরের মানুষ রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আতঙ্কে কাটিয়েছে। শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা, সড়ক, নদী তীর, আদালত চত্বরে সন্ত্রাস ও হত্যার দখলে। এক বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খুনের সংখ্যা ৮৩, যার মধ্যে নগরীতে ৩৬ এবং জেলা এলাকায় ৪৬টি। নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে কমপক্ষে শতাধিক লাশ। প্রকাশ্যে আদালত চত্বরে জোড়া খুন, একই পরিবারে তিনজন হত্যাসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১১ জুলাই দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ১৭ নভেম্বর মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা এবং তার দুই নাতি ফাতিহা ও মুস্তাকিম নিহত হন। একই দিনে সোনাডাঙ্গা করিমনগরে আলাউদ্দিন মৃধা গৃহে ঢুকে হত্যা করা হয়। ৩০ নভেম্বর জেলা আদালত চত্বরে হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে হত্যা করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর শলুয়া বাজারে ইমদাদুল হক মিলন এবং ১৪ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতুর কাছে যশোরের সন্ত্রাসী সাগর নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে ৩৬টি খুনের মামলা হয়েছে। হত্যার ১৪টি মূল কারণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্য ১৩টি, পারিবারিক কলহ ৬টি, প্রেমঘটিত হত্যা ২টি, ইজিবাইক চুরি ২টি, পরকীয়া ২টি, জমি বিরোধ ২টি, চোরাই স্বর্ণ বিক্রয় ১টি, ব্যবসায় টাকা লেনদেন ২টি, টিসিবির লাইনে বিরোধ ১টি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা ১টি, মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যা ১টি, চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে হত্যা ১টি এবং অজ্ঞাত কারণে ২টি। ২৩টি হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটিত হলেও ১৩টির রহস্য এখনও সমাধান হয়নি।
মাসভিত্তিক খুনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ৫, ফেব্রুয়ারি ২, মার্চ ৬, এপ্রিল ৯, মে ১০, জুন ৯, জুলাই ২, আগস্ট ১১, সেপ্টেম্বর ৬, অক্টোবর ১৩, নভেম্বর ৬, ডিসেম্বর ৪টি। থানাভিত্তিক : সদর ১০, সোনাডাঙ্গা ৯, লবণচরা ৫, হরিণটানা ৪, খালিশপুর ৩, দৌলতপুর ৩, আড়ংঘাটা ২। জেলার মধ্যে রূপসা ১৩, তেরখাদা ২, দিঘলিয়া ৩, ফুলতলা ৭, ডুমুরিয়া ৭, বটিয়াঘাটা ৪, দাকোপ ৬, পাইকগাছা ১, কয়রা ৩।
২০২৫ সালে শহরে সাতটি বড় সন্ত্রাসী গ্যাং সক্রিয়। শীর্ষ চরমপন্থি নেতাদের জামিনে মুক্তির পর, দৌলতপুরের টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত নাসিমুল গণি ও আরমান শেখ আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ বলছে, এ কারণে শহরে নতুন গ্যাং আধিপত্য শুরু করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মোতালেব শিকদারের হত্যাচেষ্টায় সুটার ঢাকাইয়া শামীম ও মাহাদিন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য দেখাতে ১৩টি হত্যার ঘটনা ঘটে।  
র‍্যাব-৬-এর কর্মকর্তা নিস্তার আহমেদ জানান, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রম বছরজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।
নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. বাবুল হাওলাদার বলছেন, শহরে সহিংসতা ও হত্যার মাত্রা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র‍্যাবের কার্যক্রম যথাযথ হলেও, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবন্ধকতা না থাকায় অপরাধীরা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
রূপসা উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সেখানে ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অধিকাংশ গুলিতে। পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তির ফলে এলাকায় আধিপত্যের লড়াই বেড়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ব্যবহার ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পুলিশ বলছে, সোর্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত সন্ত্রাসীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুলনার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক সহযোগিতা ও আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রম একযোগে প্রয়োজন।
২০২৫ সালে খুলনা ছিল এক ভয়ংকর বাস্তবতার নগরী। শহরের মানুষ রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আতঙ্কে কাটিয়েছে। শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা, সড়ক, নদী তীর, আদালত চত্বরে সন্ত্রাস ও হত্যার দখলে। এক বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খুনের সংখ্যা ৮৩, যার মধ্যে নগরীতে ৩৬ এবং জেলা এলাকায় ৪৬টি। নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে কমপক্ষে শতাধিক লাশ। প্রকাশ্যে আদালত চত্বরে জোড়া খুন, একই পরিবারে তিনজন হত্যাসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১১ জুলাই দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ১৭ নভেম্বর মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা এবং তার দুই নাতি ফাতিহা ও মুস্তাকিম নিহত হন। একই দিনে সোনাডাঙ্গা করিমনগরে আলাউদ্দিন মৃধা গৃহে ঢুকে হত্যা করা হয়। ৩০ নভেম্বর জেলা আদালত চত্বরে হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে হত্যা করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর শলুয়া বাজারে ইমদাদুল হক মিলন এবং ১৪ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতুর কাছে যশোরের সন্ত্রাসী সাগর নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে ৩৬টি খুনের মামলা হয়েছে। হত্যার ১৪টি মূল কারণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্য ১৩টি, পারিবারিক কলহ ৬টি, প্রেমঘটিত হত্যা ২টি, ইজিবাইক চুরি ২টি, পরকীয়া ২টি, জমি বিরোধ ২টি, চোরাই স্বর্ণ বিক্রয় ১টি, ব্যবসায় টাকা লেনদেন ২টি, টিসিবির লাইনে বিরোধ ১টি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা ১টি, মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যা ১টি, চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে হত্যা ১টি এবং অজ্ঞাত কারণে ২টি। ২৩টি হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটিত হলেও ১৩টির রহস্য এখনও সমাধান হয়নি।
মাসভিত্তিক খুনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ৫, ফেব্রুয়ারি ২, মার্চ ৬, এপ্রিল ৯, মে ১০, জুন ৯, জুলাই ২, আগস্ট ১১, সেপ্টেম্বর ৬, অক্টোবর ১৩, নভেম্বর ৬, ডিসেম্বর ৪টি। থানাভিত্তিক : সদর ১০, সোনাডাঙ্গা ৯, লবণচরা ৫, হরিণটানা ৪, খালিশপুর ৩, দৌলতপুর ৩, আড়ংঘাটা ২। জেলার মধ্যে রূপসা ১৩, তেরখাদা ২, দিঘলিয়া ৩, ফুলতলা ৭, ডুমুরিয়া ৭, বটিয়াঘাটা ৪, দাকোপ ৬, পাইকগাছা ১, কয়রা ৩।
২০২৫ সালে শহরে সাতটি বড় সন্ত্রাসী গ্যাং সক্রিয়। শীর্ষ চরমপন্থি নেতাদের জামিনে মুক্তির পর, দৌলতপুরের টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত নাসিমুল গণি ও আরমান শেখ আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ বলছে, এ কারণে শহরে নতুন গ্যাং আধিপত্য শুরু করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মোতালেব শিকদারের হত্যাচেষ্টায় সুটার ঢাকাইয়া শামীম ও মাহাদিন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য দেখাতে ১৩টি হত্যার ঘটনা ঘটে।  
র‍্যাব-৬-এর কর্মকর্তা নিস্তার আহমেদ জানান, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রম বছরজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।
নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. বাবুল হাওলাদার বলছেন, শহরে সহিংসতা ও হত্যার মাত্রা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র‍্যাবের কার্যক্রম যথাযথ হলেও, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবন্ধকতা না থাকায় অপরাধীরা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
রূপসা উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সেখানে ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অধিকাংশ গুলিতে। পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তির ফলে এলাকায় আধিপত্যের লড়াই বেড়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ব্যবহার ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পুলিশ বলছে, সোর্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত সন্ত্রাসীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুলনার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক সহযোগিতা ও আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রম একযোগে প্রয়োজন।

জনপ্রিয় পোস্ট
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

ইউরোপে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন: মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন

ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।

নিউইয়র্কের সম্ভাব্য মেয়র মুসলিম তরুণ মামদানি

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন তরুণ, মুসলিম, প্রগতিশীল নেতা—জোহারান মামদানি। তার বয়স মাত্র ৩৩ বছর, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি নিউইয়র্কবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন সাহসী বক্তব্য, সমাজকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং ভিন্নধারার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে। অনেকেই বলছেন, নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে পারেন এই মুসলিম তরুণ।   মামদানির পরিচয় জোহারান মামদানি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-উগান্ডীয় বংশোদ্ভূত। তার মা বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, আর বাবা মোহাম্মদ মামদানি একজন নামকরা শিক্ষাবিদ। মামদানি শৈশবেই উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হন। তিনি বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়াতে বসবাস করেন এবং পেশাগতভাবে একজন হাউজিং কাউন্সেলর থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন।   রাজনীতিতে প্রবেশ ২০২০ সালে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সমর্থনে কুইন্স জেলার ৩৬ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি গৃহহীন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফ্রি পাবলিক বাস সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা   সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জোহারান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য বিবেচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসীদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে এটি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে।   মুসলিম পরিচয় এবং নেতৃত্ব একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে মামদানি কখনও নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকাননি। বরং তিনি ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজসেবা ও ন্যায়ের কথা বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। তিনি ‘Students for Justice in Palestine’ নামক সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ন্যায়ের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।   উপসংহার জোহারান মামদানি শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। একদিকে তার তরুণ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নতুন দিশা দিতে পারে। নিউইয়র্কবাসীর আশাবাদ—এই তরুণ যদি মেয়র হন, তবে নগরবাসীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা এক নতুন ইতিহাস দেখতে পারি।

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
সিংগাইরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চোরের মৃত্যু

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সংঘবদ্ধ একটি চোর চক্র খানপাড়া এলাকার একটি ফাঁকা স্থানে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটির ট্রান্সফর্মার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে যায়। এ সময় তারা ট্রান্সফরমারের সঙ্গে লাগানো শিকল ও তালা কাটার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ট্রান্সফরমারটি খুলে ফেলার আগেই হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চোর চক্রের এক সদস্য নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাত হওয়ায় নিহতের মরদেহ সামান্য দূরে সরিয়ে রেখে চক্রের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে পথচারীদের নজরে বিষয়টি এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। স্থানীয়রা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই এলাকার পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বারবার এমন চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। সিংগাইর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা থানা-পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”

Admin জানুয়ারী ২, ২০২৬ 0

এক বছরে ৮৩ হত্যাকাণ্ড, নদী থেকে শতাধিক লাশ উদ্ধার

কালীগঞ্জে চিরকুট পাঠিয়ে হত্যা-গুম-লুটপাট, চাঁদা দাবী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি

0 Comments