দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশি টাকার বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার (৩ জানুয়ারি) অনুযায়ী প্রধান মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার হারের তালিকা হল:
• ইউএস ডলার: ১২২.৩৫ টাকা
• ইউরো: ১৪৩.৭১ টাকা
• ব্রিটিশ পাউন্ড: ১৬৪.৮৯ টাকা
• অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮১.৬৬ টাকা
• জাপানি ইয়েন: ০.৭৮ টাকা
• কানাডিয়ান ডলার: ৮৯.১৫ টাকা
• সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৫.১৭ টাকা
• চীনা ইউয়ান রেনমিনবি: ১৭.৫৩ টাকা
• ভারতীয় রুপি: ১.৩৬ টাকা
• শ্রীলঙ্কান রুপি: ২.৫৩ টাকা
• মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩০.১৬ টাকা
• সৌদি রিয়াল: ৩২.৬০ টাকা
• কুয়েতি দিনার: ৩৯৭.১৬ টাকা
• সুইডিশ ক্রোনা: ১৩.৩০ টাকা
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠা-নামার কারণে যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হারে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুধু ডিসেম্বরেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ২২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার। এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দেশভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে—৪৯ কোটি ডলারের বেশি। খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখান থেকে এসেছে প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও ওমান থেকেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। ব্যাংকভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ সবচেয়ে বেশি, যা মোট আয়ের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ধারাবাহিক প্রণোদনা, হুন্ডি দমন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা বৃদ্ধির ফলেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরেও প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে টানা অস্থিরতা। সূচকের উত্থান-পতন, লেনদেনের নিম্নগতি এবং কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে হঠাৎ দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। অনেকেই দিনশেষে লোকসান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, আবার কেউ কেউ বিনিয়োগ না করেই ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থানে রয়েছেন। অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনীতির সামগ্রিক চাপ, বিশেষ করে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে থাকছেন। অন্যদিকে, কিছু কোম্পানির দুর্বল মৌলভিত্তি এবং গুজবের ভিত্তিতে দর বাড়া কিংবা কমা — বাজারকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে উঠেছে কঠিন। বিশেষ করে যারা স্বল্প অভিজ্ঞ, তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সময়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের। প্রথমত, যেসব কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক, যাদের ব্যবসার ভিত্তি শক্ত এবং ডিভিডেন্ড প্রদানে নিয়মিত, সেসব কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই সময় ‘শেয়ার কম দামে কিনে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা’ কৌশল বেশ কার্যকর হতে পারে। দ্বিতীয়ত, গুজব বা বাজারে হঠাৎ ওঠা কোনো খবরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কিছু 'পাম্প অ্যান্ড ডাম্প' স্টকে আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে ফাঁদ পাতা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলে। তৃতীয়ত, কারও যদি অর্থনৈতিক সংকট থাকে বা ধার করা অর্থ দিয়ে শেয়ার কেনার চিন্তা থাকে, তাহলে আপাতত বাজারে প্রবেশ না করাই উত্তম। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া প্রযুক্তি ও নিউজভিত্তিক এনালাইসিসের পাশাপাশি মৌলিক বিশ্লেষণ (ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস) করা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ চাইলে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নিতে পারে বা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর পরামর্শও গ্রহণ করতে পারে। সবশেষে বলা যায়, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি পতনের পরই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টা ধরতে পারে কেবল ধৈর্যশীল ও সচেতন বিনিয়োগকারীরা। তাই আতঙ্ক নয়, জ্ঞান ও কৌশলের মাধ্যমে বিনিয়োগ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।