অপরাধ

মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আনন্দ কুমার সাহা গ্রেপ্তার

Admin জানুয়ারী ২, ২০২৬ 0

ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার সাহা আনু (৪৮) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ডিবি পুলিশের একটি দল মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন টাউন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আনন্দ কুমার সাহা পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকার শিবু সাহার ছেলে। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

ইউরোপে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন: মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন

ইউরোপে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের যে ঢেউ বইছে, তা যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ দক্ষিণ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, আর মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের তাপপ্রবাহ শুধু একটি স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে যেত না, এখন সেখানে ৪৫-৪৭ ডিগ্রিও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এমনকি অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে আগুন লেগে যাচ্ছে বনাঞ্চলে, আর দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে এই গরমে মৃত্যুহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইতালির রোমে একদিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে শুধুমাত্র হিট স্ট্রোকের কারণে। ফ্রান্সে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য ঠান্ডা ঘর তৈরি করতে হচ্ছে, আর জার্মানির কিছু এলাকায় পানি সংরক্ষণের জন্য বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। গরমের প্রভাবে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পড়েছে বড় প্রভাব। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অনেক অফিস ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুপুরের সময়। পর্যটন খাতে পড়েছে বড় আঘাত, কারণ বহু পর্যটক সফর বাতিল করছেন। কৃষিক্ষেত্রেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে—খরায় জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশু পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে, আর কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন তীব্র গরম কেবল শুরু। যদি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এই হারে, তাহলে আগামী কয়েক দশকে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। অনেক দেশ এরইমধ্যে তাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ও ঠান্ডা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু পরামর্শ বা সতর্কতা যথেষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন, এখনই যদি বিশ্ব নেতারা কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা যাবে, এবং শুধু ইউরোপ নয়, গোটা পৃথিবীর মানুষকেই এর মূল্য দিতে হবে। ইউরোপে এই গ্রীষ্মের ভয়াবহ চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—জলবায়ু পরিবর্তন আর কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনই ঘটছে, এবং এর প্রভাব এখনই আমাদের জীবনকে করে তুলছে হুমকির মুখে।

নিউইয়র্কের সম্ভাব্য মেয়র মুসলিম তরুণ মামদানি

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন তরুণ, মুসলিম, প্রগতিশীল নেতা—জোহারান মামদানি। তার বয়স মাত্র ৩৩ বছর, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি নিউইয়র্কবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন সাহসী বক্তব্য, সমাজকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং ভিন্নধারার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে। অনেকেই বলছেন, নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে পারেন এই মুসলিম তরুণ।   মামদানির পরিচয় জোহারান মামদানি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-উগান্ডীয় বংশোদ্ভূত। তার মা বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, আর বাবা মোহাম্মদ মামদানি একজন নামকরা শিক্ষাবিদ। মামদানি শৈশবেই উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হন। তিনি বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়াতে বসবাস করেন এবং পেশাগতভাবে একজন হাউজিং কাউন্সেলর থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন।   রাজনীতিতে প্রবেশ ২০২০ সালে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সমর্থনে কুইন্স জেলার ৩৬ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি গৃহহীন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফ্রি পাবলিক বাস সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা   সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জোহারান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য বিবেচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসীদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে এটি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে।   মুসলিম পরিচয় এবং নেতৃত্ব একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে মামদানি কখনও নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকাননি। বরং তিনি ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজসেবা ও ন্যায়ের কথা বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। তিনি ‘Students for Justice in Palestine’ নামক সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ন্যায়ের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।   উপসংহার জোহারান মামদানি শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। একদিকে তার তরুণ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নতুন দিশা দিতে পারে। নিউইয়র্কবাসীর আশাবাদ—এই তরুণ যদি মেয়র হন, তবে নগরবাসীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা এক নতুন ইতিহাস দেখতে পারি।

মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আনন্দ কুমার সাহা গ্রেপ্তার

ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার সাহা আনু (৪৮) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ডিবি পুলিশের একটি দল মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন টাউন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আনন্দ কুমার সাহা পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকার শিবু সাহার ছেলে। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Admin জানুয়ারী ২, ২০২৬ 0

টিকটককে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, এক কিশোর নিহত

অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁসের চক্র সক্রিয়, ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখায় অভিযান

গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল: যুবক গ্রেপ্তার, মামলা রুজু

গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল: যুবক গ্রেপ্তার, মামলা রুজু

সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী
সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এর প্রধান শিকার হয়ে উঠেছে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার—এইসব প্রযুক্তিনির্ভর দৈনন্দিন অভ্যাসই এখন তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়লেও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়েনি। ফলে প্রতারণা, ফিশিং, হ্যাকিং, ভুয়া লিংকে ক্লিক করে তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইলিং, ফেক আইডি তৈরি করে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ অহরহ ঘটছে। বিশেষ করে টিনএজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজেই টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, কিংবা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিজেদের তথ্য দিয়ে দিচ্ছে। এরপরে শুরু হয় প্রতারণা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছাত্রীদের ছবি বা ভিডিও এডিট করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে, যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভুক্তভোগীদের। শুধু সামাজিক হয়রানি নয়, আর্থিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ইনকাম বা স্কলারশিপের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে দিচ্ছে কিংবা অর্থ জমা দিচ্ছে—যার মাধ্যমে তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। অপরদিকে, গেমিং অ্যাডিকশন বা ডার্ক ওয়েব নিয়ে আগ্রহী হয়ে অনেক তরুণই নিজেই জড়িয়ে পড়ছে সাইবার অপরাধে। এটি শুধু তাদের ভবিষ্যতের জন্যই হুমকি নয়, বরং দেশের সাইবার নিরাপত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে এসব অপরাধ চিহ্নিত ও দমন করার চেষ্টা করছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও হতে হবে সচেতন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, অপরিচিত লিংক বা অ্যাপ এড়িয়ে চলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমিত তথ্য শেয়ার করা এবং সন্দেহজনক বার্তা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো—এই কিছু সাধারণ পদক্ষেপই অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা চালু করা, অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর কৌশল তৈরি করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। কেননা, তরুণ প্রজন্ম যদি ভয় বা অনিরাপত্তায় ভোগে, তাহলে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অদৃশ্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে যেতে হলে শুধু প্রযুক্তি জানলেই হবে না—নিরাপদ থাকা ও অন্যকে নিরাপদ রাখা, দুটোই একসঙ্গে শিখতে হবে। তরুণদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই সময় সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা

রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা

চাকরির প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক-যুবতী

চাকরির প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক-যুবতী

ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা

ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা

রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রাজধানী ঢাকায় দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষ বাড়ি থেকে অফিস বা বাজার করার জন্য বের হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা অনেক সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে পুলিশের কার্যক্রম ও আইনের শাসনের প্রভাব কতটা রয়েছে তা নিয়ে। দুপুরের সময় হলেও পথচারী, যাত্রী ও গাড়ি চালকরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন, ব্যাগ, অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের আলোতে এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে নানা কারণ কাজ করছে। যেমন, বাড়ছে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর অস্ত্র বহন। এছাড়া সড়ক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাও বড় কারণ। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়-সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য। বিশেষ অভিযান, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পেট্রোলিং বাড়ানো ইত্যাদি চেষ্টা হলেও তাতে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় তারা নিজেও সতর্ক হয়ে উঠছেন। ভিড়বহুল এলাকায় বেশি সতর্ক থাকা, বিকল্প পথ ব্যবহার করা, রাতের সময়ে অযথা বাইরে না যাওয়ার মতো অভ্যাস গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংহতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে অপরাধ কমানো সম্ভব। এছাড়া দ্রুত অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেফতারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সব মিলিয়ে, দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। দেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। নিরাপত্তা হল এক ধরনের মৌলিক অধিকার, যা প্রত্যেক নাগরিকের থাকা উচিত। তাই সময় নেয়া প্রয়োজন আধুনিক ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার, যাতে সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0

0 Comments