খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে—এই দুইটা একসাথে চলতে পারে না।” তিনি বলেন, “যে নিজের মাকে সম্মান করতে পারে না, সে বাংলাদেশের কোনো নারীকে সম্মান করতে পারবে না। আমরা মায়ের জাতির ওপর হামলা হতে দেব না।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মাঘ মাসেই যদি মাথা গরম হয়ে যায়, চৈত্র মাসে কী করবেন? জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে যারা জনগণের রায়কে অসম্মান করেছে, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের শরীরে আঘাত করা যায়, কিন্তু হৃদয় কখনো জয় করা যায় না। হৃদয় জয় করতে হলে মায়ের জাতিকে সম্মান করতে হবে।”
খুলনার শিল্প পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “৫৪ বছরে খুলনার শিল্প বিকশিত হয়নি, বরং ধ্বংস হয়েছে। একের পর এক সরকারি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। একটি কারখানা বন্ধ মানে শুধু একজন নয়, একটি পুরো পরিবার বেকার হওয়া।” তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে।”
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুলনাবাসীর সঙ্গে বসে আলোচনা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে জলাবদ্ধতার সমাধান করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বেকারদের হাতে ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করব।” মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে ঘর ও কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র নারীদের পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি জামায়াতের পক্ষে নয়, সন্তানহারা মা, স্বামীহারা বোন ও এতিমদের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি।” তিনি দাবি করেন, “৫ আগস্টের পর জামায়াত প্রতিশোধ নেয়নি—এটাই প্রমাণ করেছে জনগণ আমাদের কাছে নিরাপদ।”
জনসভায় উপস্থিত সবাইকে ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে, আমরা শুধু ভোটারকে বাক্স পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্ধ মিল চালু, গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর ও সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্পে রূপান্তরের দাবি জানান।
জনসভায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এবং জামায়াত ও মিত্র দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কেবল সততা বা কেবল যোগ্যতা—এককভাবে কোনোটি দিয়েই কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সুশাসনের জন্য উভয়ের সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যোগ্য মানুষের অভাব নেই, কিন্তু সর্বস্তরে দুর্নীতির বিস্তার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার দাবি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সংগঠিত ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাগতভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে ডা. সুলতান আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে হিন্দুবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তবে ঐতিহাসিকভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, ধর্মীয় সহাবস্থান ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে বরগুনায় একটি মেডিকেল কলেজ, একটি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৎ ও নীতিবান নেতৃত্বকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই—দায় নিতে হবে সবাইকেই।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এলাকায় ভোট চাইতে গিয়ে ভোটারদের টাকা দেন। এ সময় কয়েকজন ভোটারকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট দেখাতে দেখা যায়। তারা দাবি করেন, ভোটের জন্য ওই টাকা জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনায় জামায়াত নেতা রবিউল আলম তালুকদার বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, বিকেলে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে প্রতিপক্ষ দলের লোকজন নিজেরাই টাকা দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়, গলায় থাকা মাফলার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনে প্রচারণা জোরদার করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বিএনপি। সকালে বাসদ প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবত্তী বিএম কলেজ এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তার নির্বাচনী অফিস নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবু ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন এবং আশা করছেন, ভোটাররা বাসদের মই মার্কার পক্ষে রায় দেবেন। দুপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে গণসংযোগ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবে। বরিশাল সদর-৫ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।