ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলায় জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকের হাট বাজারের মডেল মসজিদে জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই আল-হাদী, জেলা তথ্য অফিসার মো. শাহ আব্দুর রহিম নুরন্নবী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান তার বক্তব্যে ভোটারদের হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব ও উপকারিতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সব পক্ষ অংশগ্রহণ করবে এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে জনগণের মতামত নিশ্চিত হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ইমামদের জনসচেতনতা বৃদ্ধির নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। অতীতের বিনা ভোটের নির্বাচন আর হওয়া যাবে না, এজন্য সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি ড্রেজার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া মোল্লারহাট সংলগ্ন সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর মোহনার উত্তর পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার তামান্না। অভিযানের সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের সহযোগী মনির হোসেন প্যাদা ও এনামুল শিকদারের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ড্রেজারটি জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ভূতেরদিয়া এলাকায় বালুমহালের ইজারা বাতিল থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নদীর তলদেশ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার তামান্না বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ নদীভাঙনে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ফাঁকা হওয়ার সময় নগরবাসীর বাসাবাড়ি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ত্যাগের আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে। প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের কাছে কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায়ও সেগুলো জমা রাখা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রোববার (১৫ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়ায় শহরের অনেক এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এ অবস্থায় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সচেতন থাকা জরুরি। বাসা ছাড়ার আগে দরজা–জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বা সচল রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও জানান, ঈদের সময় রাজধানীতে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের টহল ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির মাধ্যমে মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত ফুট প্যাট্রোলও পরিচালিত হচ্ছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে রাজধানীর চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমার চক্রের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন ও পরবর্তী কয়েক দিন ফাঁকা রাজধানীতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বা রেসিং প্রতিরোধে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী–আবদুল্লাহপুর করিডোর এবং গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।
ছাত্ররাজনীতি থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী ও আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শনিবার (১৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–এর অধীন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন কলেজ–এ পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এ যোগ দেন। পরে ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন। একই বছর তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও মনোনীত হন। পরে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থা–এর চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন শিরিন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল সিটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রায় এক দশক অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।