নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন আদানী মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।
গণসংযোগকালে আদানী মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালানো হয়। প্রার্থী স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের মতামত শোনেন।

এ সময় তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া তাকে অনুপ্রাণিত করছে। নিজেকে এলাকার সন্তান উল্লেখ করে তিনি জনগণের সেবা করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষ পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। সে লক্ষ্যেই প্রতিটি ওয়ার্ডে সুষম উন্নয়ন, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনের উন্নয়নের স্বার্থে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কেবল সততা বা কেবল যোগ্যতা—এককভাবে কোনোটি দিয়েই কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সুশাসনের জন্য উভয়ের সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যোগ্য মানুষের অভাব নেই, কিন্তু সর্বস্তরে দুর্নীতির বিস্তার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার দাবি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সংগঠিত ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাগতভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে ডা. সুলতান আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে হিন্দুবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, তবে ঐতিহাসিকভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, ধর্মীয় সহাবস্থান ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে বরগুনায় একটি মেডিকেল কলেজ, একটি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৎ ও নীতিবান নেতৃত্বকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই—দায় নিতে হবে সবাইকেই।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূঞাপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও জামায়াত নেতা কাজী নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এলাকায় ভোট চাইতে গিয়ে ভোটারদের টাকা দেন। এ সময় কয়েকজন ভোটারকে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট দেখাতে দেখা যায়। তারা দাবি করেন, ভোটের জন্য ওই টাকা জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পেয়েছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনায় জামায়াত নেতা রবিউল আলম তালুকদার বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, বিকেলে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে প্রতিপক্ষ দলের লোকজন নিজেরাই টাকা দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়, গলায় থাকা মাফলার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনে প্রচারণা জোরদার করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বিএনপি। সকালে বাসদ প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবত্তী বিএম কলেজ এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠি গ্রামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তার নির্বাচনী অফিস নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবু ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন এবং আশা করছেন, ভোটাররা বাসদের মই মার্কার পক্ষে রায় দেবেন। দুপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে গণসংযোগ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবে। বরিশাল সদর-৫ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।