ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কালেখারবেড় শহীদ মিনার চত্বরে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের শক্তিই বিএনপির মূল শক্তি। এই শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সকল ষড়যন্ত্র, অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জানমাল, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অবসান ঘটানো হবে।
রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান (তুহিন) ও সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাবু।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন ইজারাদার। মঞ্জুরুল রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুমুর রহমান মাসুমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ধারাবাহিকতায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক বড় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। নন্নী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, শেরপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া (ভিপি)। তিনি তার বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন কামনা করেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. আফসার উদ্দিন, পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আব্দুল মোমেন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আব্দুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম। এছাড়া ব্যবসায়ী নেতা শামসুল আলম সওদাগর, জকসু নির্বাচিত নেতা মো. মুস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। বক্তারা বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নালিতাবাড়ীর কৃতীসন্তান মু. গোলাম কিবরিয়াকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ, আর সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন মানবিক নেতা ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ডা. শফিকুর রহমান।” সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ইনসাফের প্রতিনিধিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ আজ ইনসাফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের অভাবে এই অঞ্চলের মানুষ বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট তরুণ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে এনেছে। তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা অবশ্যই হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করবো।” নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা। এর আগে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি শহরের হাতিখানা কবরস্থানে শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন এবং সৈয়দপুর শহরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের নির্বাচনী ব্যানারে অজ্ঞাত ব্যক্তি আগুন ধরানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৃথকভাবে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জেলা বিএনপির কার্যালয়ে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট নওফল জমির অভিযোগ করেন, ধাক্কামারা ইউনিয়নের জতনপুকুরী জামিয়া কারিমীয়া কেরাতুল কোরআন মাদরাসা সংলগ্ন ব্যানারে শনিবার রাতের দিকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই রাত তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীপাড়া গ্রামের তেপথী মোড় এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তি দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেন, যা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই ঘটনায় বিএনপির জেলা ও ইউনিয়ন নেতারা পৃথকভাবে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিএনপি অভিযোগ করছে, এ ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রেক্ষিতে সংঘটিত হয়েছে।