বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র নির্বাচনী পথসভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মোহাম্মদ স্বপন বলেছেন, ব্রিটিশ আইন ধারা পরিচালিত পুরোনো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন করতে হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোরেলগঞ্জ পৌর পার্কে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল দীর্ঘদিন ধরে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে আসছে। সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। তিনি জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাগেরহাট-৪ আসনে জেএসডি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল লতিফ খানকে তারা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
জেএসডির উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নীল রতন মিস্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. তাওহিদ উদ্দিন, খুলনা জেলা সভাপতি মো. রেজাউল করিম ও কেন্দ্রীয় নেতা মো. লোকমান খান।
সভায় মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ খান বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সাধারণ মানুষ সে অধিকার পায়নি। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেএসডির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল খান।
সাতক্ষীরার-৩ (কালিগঞ্জ ও আশাশুনি) আসনের বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের বল প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িত ছিলেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে কালিগঞ্জের ১৬ ও আশাশুনির ১২ জন নেতা-কর্মীর বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের সুপারিশ এবং জেলা আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের অনুমোদনে। বিএনপির সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই দেশের কিছু গুপ্ত সংগঠনের নেতারা নতুন জালিম হয়ে উঠেছে, যাদের কাছে মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মাধ্যমে। কিন্তু কিছু গুপ্ত নেতা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, নারীদের অসম্মান করছে। তারা ক্ষমতায় এলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হবে।” তারেক বলেন, এই গুপ্ত নেতারা আগেও স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছে। তারা ৭১, ৮৬, ৯৬ ও গত ১৫ বছরে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত ছিল। “যারা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই,” যোগ করেন তিনি। বরিশালের নদী ভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি জিতলে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।” চেয়ারপারসন আরও বলেন, নারী-পুরুষ একত্রে কাজ করতে হবে, তা না হলে উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। গুপ্ত দলগুলোর বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও আচরণ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার প্রকাশ করেন। ‘আগামী ভালুকার ইশতেহার’ শীর্ষক ঘোষণায় তিনি ১২ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেন। শাপলা কুঁড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে চান। তার ইশতেহার ভালুকার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভালুকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের ১২ দফার মধ্যে রয়েছে— রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও বনায়ন, প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১০০ শয্যার আধুনিক উপজেলা হাসপাতাল ও মোবাইল ক্লিনিক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, নারী ক্ষমতায়নে আইটি প্রশিক্ষণ, স্মার্ট কৃষি, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, মাতৃস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ ও সড়ক উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং মাসিক গণশুনানির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি প্রতি মাসে জনগণের সামনে কাজের হিসাব তুলে ধরবেন। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।