রংপুরের পীরগঞ্জে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিনজন নিহত ও কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পীরগঞ্জ পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি ট্রাক সামনে থাকা অন্য ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেলে দ্রুতগতিতে আসা হানিফ পরিবহনের বাস সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই গাজীপুরের রাহিমা আক্তার মুন্নি (৩৭) মারা যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আব্দুল রাজ্জাক হওলাদার (৬০) এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ছেলে আরাফাত সানী সানভী (২০) মারা যান।
বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহে ভোগান্তির মধ্যেই সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সরবরাহে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা তথ্য অফিস থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়, বৈধ কাগজপত্র ও ফুয়েল কার্ড ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি দেওয়া যাবে না। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার সব ফিলিং স্টেশন থেকে শুধুমাত্র মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো পাম্প বা ডিলার পয়েন্ট থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়া জ্বালানি নিতে হলে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেনসহ বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে জেলা প্রশাসনের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কার্ড ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি দেওয়া হবে না। ফুয়েল কার্ড জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইউএনও অফিস ও জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সাতক্ষীরা জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: জাহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্রে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হবে এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে জামায়াত নেতার বসতঘর থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ২টার দিকে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি বিদেশি রিভলভার, একনলা বন্দুক, দেশীয় পাইপগান, বিভিন্ন প্রকার ১৩ রাউন্ড গুলি, ১৪ বক্স ক্যালিবারের এয়ারগানের গুলি এবং এক খালি ম্যাগাজিনসহ দেশীয় প্রানঘাতী ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযান শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের আরশদ আলীর ছেলে এবং জামায়াতে ইসলামি শ্রীরামিসি আঞ্চলিক শাখার সভাপতি।
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিককে পথরোধ করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নের কাহালপুর চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দৈনিক ইনকিলাব-এর উপজেলা প্রতিনিধি ও মোল্লাহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম দিদার এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঈদের দাওয়াত শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ইবনে মাসউদ মাদ্রাসা মোড়ে স্থানীয় যুবক নয়ন মিয়া (২০) তার পথরোধ করে। এ সময় সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং দাবি পূরণ না হলে ‘সেভেন গিয়ার’ ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। অভিযুক্ত নয়ন ওই এলাকার সাইদ মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত অপরাধী বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম দিদার জানান, কোনো পূর্ববিরোধ ছাড়াই তাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা তার কাছে অপ্রত্যাশিত। ঘটনার পর অভিযুক্তের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় বাগেরহাট ইউনাইটেড মিডিয়া ফোরামের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।