আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-২ (বোদা–দেবীগঞ্জ) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বোদা উপজেলার পাচপীর ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফিকে নিয়ে বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসন, বিজিবি এবং উভয় দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পৃথক ঘটনায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নে ধানের শীষের জনসভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় পাচপীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায় ও বোদা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র শিশা গুরুতর আহত হন। হামলায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
সংঘর্ষের পর শুক্রবার রাতজুড়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সংঘর্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন চাওয়ার কথা জানান। অপরদিকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফি সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি আনোয়ারা ইসলাম রানী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর নূরপুরে ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের হরিণ প্রতীকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যেন কোথাও কোনো উত্তেজনা, সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সমর্থক এবং তার কর্মী-স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। কারো সঙ্গে আপোষ বা সমঝোতার অংশ হিসেবে নয়, বরং বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো বিদায় নয়; এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান। তিনি আরও বলেন, হিজড়া সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এসব জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন হিসেবে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, আনোয়ারা ইসলাম রানী ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি। তিনি ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট অর্জন করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুল রহমানেল মাসুদ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো নিরাপত্তা বা ইঞ্জিনিয়ারিং সমস্যা নেই। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে সহনশীল আচরণের আহবান জানান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রংপুর সার্কিট হাউস হলরুমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইসি বলেন, দেশের সম্প্রতিক দুই হত্যাকাণ্ডের কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা যায়। ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন, মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) ইফতেখার হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বাগেরহাটে শরিফ ওসমান হাদী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ছাত্রজনতা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় সদর উপজেলার খান জাহান আলী মাজার মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসেন অপু ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক এস.এম. সাদ্দাম। বক্তারা বলেন, হাদীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।