আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ছয়টি আসনে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের ছয়জন প্রার্থী মূল ভূমিকা রাখলেও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। এই আসনে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ ভোটার রয়েছেন। বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনে চতুর্থবারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন এম জহির উদ্দিন স্বপন, এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
বরিশাল-২ (উজিরপুর ও বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এবং ১১ দলীয় জোটের সমর্থনপ্রাপ্ত এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী রাজীব আহসান এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কারের জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার লড়াই করছেন। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন খানকে চ্যালেঞ্জ করছেন ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের প্রার্থী।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা কৌশলে ভোটার মন জয় করতে মাঠে সক্রিয়। ভোটার ও বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে ছয়টি আসনে ভোটের লড়াই আরও উত্তপ্ত হবে।
সাম্প্রতিক ঈদযাত্রা সামগ্রিকভাবে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে মূল্যায়ন দিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, যাত্রীসেবায় শৃঙ্খলা আনতে ভবিষ্যতে সকল গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা হবে। রোববার (২৯ মার্চ) ঈদ-পরবর্তী মূল্যায়ন সভা শেষে তিনি বলেন, প্রায় দেড় কোটি মানুষ স্বল্প সময়ে রাজধানী ত্যাগ করলেও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। তবে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহাসড়কে অস্থায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ, পণ্যবাহী যান চলাচলে কঠোরতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া টিকিট বিক্রি বন্ধ এবং ফেরিতে যাত্রী নামিয়ে যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি, রুট ভঙ্গ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন সহজে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থাপনা বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। সরকারের মতে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামে শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে এক সশস্ত্র হামলায় নারীসহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তিনটি বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অসংখ্য হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন চরকালেখান ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান এবং বিএনপি নেতা বাচ্চু খান। তাদের শতাধিক সহযোগী হাতবোমা, রামদা, লেজা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলায় অংশ নেন। হামলাকারীরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে ২৫–৩০টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং সালাম মুন্সী ও তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাথারি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। চারজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং বাকি আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে এক আসামিকে আটক করার সময় তাকে ট্রলার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আহত সালাম মুন্সীর ছেলে রাজিব মুন্সী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে দখলমূলক কর্মকাণ্ড, যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং স্থানীয়দের ওপর সন্ত্রাস চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে রবিবার (২৯ মার্চ) ভোরে বাস উল্টে খাদে পড়ে ইতি চক্রবর্তী (৩৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। আরও তিন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দূর্ঘটনা বাটাজোর এলাকায় ঘটে। নিহত ইতি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার গুরুদাস চক্রবর্তীর স্ত্রী। আহতদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, ভোর পাঁচটার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করা হয়। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, বরিশালগামী “গ্রীনভিউ” পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে। ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত বাস জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।