ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে শপথবাক্য পাঠ করান নবনির্বাচিত সদস্যরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সংসদ সদস্য সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অন্যান্য মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবু জাফর জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আফরোজা খানম (রিতা) সহ মোট ২৫ জন।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ২৪ জন, যার মধ্যে রয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও অন্যান্যরা। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী মিনু বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এটি রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যের জন্য দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা। এর আগে ২০০১ সালে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতেন। মিনু রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে জয়ী হন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একটানা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন, যেমন মহানগর সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব। শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক দিক থেকেও মিনুর অভিজ্ঞতা মূল্যবান। দলীয় নেতারা মনে করেন, তার নেতৃত্ব বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভূমি মন্ত্রী হিসেবে মিনুর নাম ঘোষণার পর রাজশাহীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। খবর পাওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত, সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিভ্রাটের ছায়া। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। আগে দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিএনপি এমপিরা প্রথমে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণ করেননি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ গ্রহণ করেন, কিন্তু স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা ও বিএনপির ইশরাক হোসেন সভা ত্যাগ করেন। কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, বিএনপি সাংবিধানিকভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়নি, তাই শপথ গ্রহণ করা হয়নি। সংক্ষিপ্তভাবে, মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেল।
টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। দলীয় একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। তবে সংবিধানসম্মত টেকনোক্র্যাট বিধান অনুসারে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হতে পারে।