প্রায় দুই দশকের বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সরকার পরিচালনায় তিনি ৪৯ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছেন, যেখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নবীন নেতৃত্বকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশলগত বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিজের অধীনে রেখেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দপ্তর বণ্টন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অধীনে ন্যস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সালাউদ্দিন আহমেদকে। আইন, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, তথ্য ও সম্প্রচার, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ, সড়ক ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতেও পৃথকভাবে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান ও প্রযোজ্য আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মন্ত্রিসভা গঠন ও দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যাবলি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী উত্থাপন করা সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬ প্রজ্ঞাপনভিত্তিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই সংশোধনের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে সিভিল সার্ভিসের বাইরে থাকা অন্যান্য সরকারি চাকরিতে, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরিতেও। তবে প্রতিরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে বর্তমান বিধিমালা প্রযোজ্য থাকবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের জন্য বয়স সংক্রান্ত ধারা সমন্বয় করা হলো, যা কার্যকরভাবে প্রবেশ প্রক্রিয়াকে আরও নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ করবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সচিবালয়ে, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু গুরুত্ব পায়। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে চলমান কিছু আলোচনা গোপনীয়তার স্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি হয়নি এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে অনুমতি চাওয়ার যে প্রচারণা রয়েছে, তা ভিত্তিহীন। সরকারের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, সাশ্রয়ী মূল্যে যেকোনো উৎস—মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া—থেকে জ্বালানি আমদানি করা হবে। বৈঠককালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে প্রতীকী উপহার হিসেবে দুটি ঐতিহাসিক ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা প্রদান করেন। উক্ত সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এপ্রিলের শুরুতেই জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা—ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন মূল্য নির্ধারণ করে জানায়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১,৭২৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৩৮৭ টাকা ব্যয় বহন করতে হবে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মূল্য ঘোষণা করেন, যা একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বিইআরসি’র ঘোষণায় বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের মূল্যও পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫.৫ কেজি ৭৯২ টাকা, ১২.৫ কেজি ১,৮০১ টাকা, ১৫ কেজি ২,১৬১ টাকা, ১৬ কেজি ২,৩০৫ টাকা, ১৮ কেজি ২,৫৯৩ টাকা এবং ২০ কেজি ২,৮৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বৃহৎ সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে ২২ কেজি ৩,১৬৯ টাকা, ২৫ কেজি ৩,৬০১ টাকা, ৩০ কেজি ৪,৩২১ টাকা, ৩৩ কেজি ৪,৭৫৩ টাকা, ৩৫ কেজি ৫,০৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজি ৬,৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের মূল্য মূসকসহ প্রতি লিটার ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্যহার প্রযোজ্য হওয়ার ফলে জ্বালানি ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা ও পরিবহন খাতে।