নতুন সরকার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করলেও রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ওই পদে নির্বাচন আয়োজনের আইনগত সুযোগ নেই।
সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, পদত্যাগ বা অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ ক্ষেত্রে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা কিংবা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগেও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পদত্যাগই একমাত্র বাস্তবসম্মত সাংবিধানিক পথ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। নতুন সংসদে স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দাখিল করলে সাংবিধানিক জটিলতা ছাড়াই পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম জাতীয় ভাষণের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সন্ধ্যা ৬টা থেকে পিছিয়ে এটি রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আজকের কর্মদিবস শুরু হয়েছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল অর্পণের মধ্য দিয়ে। বিকালে সচিবালয়ে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মন্ত্রিপরিষদকে নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে। পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয় কী কাজ করবে তা নির্ধারণ করে কার্যক্রম শুরু হবে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেবেন। এটি তার শপথ গ্রহণের পর দেশবাসীর উদ্দেশে প্রদত্ত প্রথম বার্তা হবে, যেখানে নতুন সরকারের নীতিমালা, কর্মপরিকল্পনা ও প্রাথমিক লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরা হবে। সরকারি তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, সকল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আজ সকালেই প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। দুপুরে তিনি সচিবালয়ে তার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য সচিবালয় এলাকা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনারও কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের ভাষণে তিনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার ও দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়ে ঘোষণা করতে পারেন।
প্রায় দুই দশকের বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সরকার পরিচালনায় তিনি ৪৯ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছেন, যেখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নবীন নেতৃত্বকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশলগত বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিজের অধীনে রেখেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দপ্তর বণ্টন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অধীনে ন্যস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সালাউদ্দিন আহমেদকে। আইন, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, তথ্য ও সম্প্রচার, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ, সড়ক ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতেও পৃথকভাবে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান ও প্রযোজ্য আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মন্ত্রিসভা গঠন ও দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যাবলি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে।