কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস হয়ে যাওয়ার পথে অটোরিকশাটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

নিহতরা সবাই খাজানগর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং পলাতক ট্রাকচালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
যমুনা নদীতে এক বৃদ্ধের লাশ ভেসে উঠেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহত আমিনুল ইসলাম খোকা (৭৩) চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মোল্লারচর গ্রামের বাসিন্দা। থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনার জন্য গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে নৌকায় রওনা দেন। মাঝ নদীতে নৌকা থেকে পড়ে স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার ফুটানিবাজার ঘাটে তার মৃত লাশ ভেসে ওঠে। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনসুর আহম্মেদ জানান, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত বাহাদুরাবাদ নৌথানা করছে।
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই ফলতিতা বটতলা মৎস্য আড়তে মাছের দামে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। তবে আড়তে দাম কমলেও মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরের ফকিরহাট বাজার খুচরা বাজারে একই মাছ দ্বিগুণ দামে বিক্রি হওয়ায় সিন্ডিকেট কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। আড়ত সূত্রে জানা যায়, রমজানের আগে বড় চিংড়ি প্রতি কেজি ১১০০–১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৮০০–৯০০ টাকায় নেমে এসেছে। রুই ও কাতলাসহ সাদা মাছের দামও প্রতি মণ ১০–১২ হাজার টাকা থেকে কমে ৮ হাজার ৫০০–৯ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে চিত্র ভিন্ন। আড়তে ৫–৬ কেজি সাইজের গ্রাস কার্প ২৮৫–৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বাজারে তা ৫০০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়িতেও প্রতি কেজিতে ২০০–৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বে পরিবহন ও বিপণন ব্যয় সর্বোচ্চ ২০–৩০ টাকা বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অতিরিক্ত মূল্য আদায় অস্বাভাবিক। স্থানীয় চাষীদের অভিযোগ, খুচরা বাজারের একটি প্রভাবশালী চক্র কম দামে মাছ কিনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এতে উৎপাদক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তারা অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আড়ত ব্যবসায়ী জ্ঞান দাস বলেন, চাহিদা কমায় বড় মাছের দাম কমেছে, ফলে লাভের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। ক্রেতা সুরুজ মিয়া প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। বাজারে মূল্য অস্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য কারসাজি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে সচেতন মহল মনে করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মহান শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই স্থান ত্যাগ করেন। ঘটনার পর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার সমর্থকরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সমর্থকদের দাবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সংসদ সদস্যকে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা দেয়। তারা অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে নিজ গ্রাম শাহবাজপুরে সাংবাদিকদের কাছে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, তার ওপর পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।