আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতির দিনে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়কে ‘অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, আশুলিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা এবং রংপুরের একটি মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়েও তিনি আপত্তি তোলেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত ও অনিয়মতান্ত্রিক।
তবে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও আইনানুগ। ব্যক্তিগত বিদ্বেষবশত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমও অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন।
নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে তা পর্যালোচনা করা হবে।
পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন ঢাকা মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ কয়েকজনের নাম সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের আসামি করা সম্ভব। বিস্ফোরক আইনের মামলায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ১,২০০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০০ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটি এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটে।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ২০০৬ সালে চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল হওয়া পুলিশের প্রায় সাড়ে ৬০০ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্টকে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং তারা অবশ্যই চাকরি ফিরে পাবেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। তবে কী কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। মন্ত্রণালয় আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ইতোমধ্যে প্রেরণ করেছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ে এসব পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনে বাধা বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, এ অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তিনজন সংসদ সদস্যের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। আলোচনায় এগিয়ে আছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর নেতৃত্বে রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী হিসেবে সক্রিয়। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং নোয়াখালী-1 আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুসরণ করেই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।