সারাদেশে হামের বিরুদ্ধে জাতীয় টিকাদান অভিযান আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ তথ্য ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মে থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইউনিসেফ থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় আমরা এ তারিখ ১৪ দিন এগিয়ে নিয়ে আসছি।”
তিনি আরও বলেন, সারাদেশের সমস্ত জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং জনগণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদে উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬ সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, সরকার এখন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে নিষিদ্ধ করতে পারবে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম প্রচারও প্রতিরোধ করা যাবে। এছাড়া, নিষিদ্ধ সংগঠন বা দলকে অর্থ, আশ্রয় বা সহায়তা প্রদানে কঠোর শাস্তির বিধান জারি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই আইনের প্রাথমিক সংস্করণ গত বছরের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন সংসদ কার্যকর না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে তা কার্যকর করা হয়েছিল। নতুন পাসকৃত বিল এখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতৃত্ব ও কৃতিত্বের দাবি তুলে বক্তব্য দিলে বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান এবং বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের ‘ফলাফল’ বিএনপির রাজনৈতিক অর্জনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, এসব আন্দোলনের ‘ট্রফি’ একমাত্র বিএনপির কাছেই রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতিফলন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বিদেশে গিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন—যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন নির্দেশ করে। এ বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘তথ্যগতভাবে অসত্য’ আখ্যা দিয়ে তা সংসদের কার্যবিবরণী (এক্সপাঞ্জ) থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। স্পিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, কার্যপ্রণালি অনুযায়ী বক্তব্য পর্যালোচনা করে অসংসদীয় বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে তা কার্যবিবরণী থেকে অপসারণ করা হবে। বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংসদ সদস্যদের শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মতবিনিময়ের সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদানকালে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের দল গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে; তবে জনস্বার্থবিরোধী বা অসত্য বক্তব্যের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের সংযত থেকে বক্তব্য প্রদানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “রাজপথে আল্টিমেটাম দেওয়া যায়, সংসদে নয়”। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার এই মন্তব্য করেন। বিষয়টি ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা গ্রেফতারের পর সংসদে উত্থাপিত হয়। স্পিকার বলেন, “উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এটি পয়েন্ট অফ অর্ডার নয়।” প্রয়োজনে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পিকার উল্লেখ করেন। এর আগে, রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ভোলায় নিজের বাসা থেকে সাওদা সুমিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেন। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের কোনো স্পষ্ট অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।