সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের স্থানীয় সংবাদদাতা সামিউল আযম মনিরের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন— সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ, বাবলুর রহমান ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিম। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সাতক্ষীরা ও শ্যামনগরে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। এতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন।
একই সময় শ্যামনগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনবিষয়ক সংবাদ প্রকাশের জেরে ২ মার্চ প্রেসক্লাবে ঢুকে সামিউল আযম মনিরের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আহত সাংবাদিক সামিউল আযম মনির সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালেদুর রহমান জানান, মামলায় অভিযুক্ত যুবদল কর্মী বাবলুর রহমান ও আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদনগর এলাকায় “ব্যাক টু স্কুল” কর্মসূচির আওতায় এ আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওব্যাট কানাডার অর্থায়নে এবং সিপিইউ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে ১৭০ জন শিক্ষার্থীকে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, খাতা, কলম, ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলেন। ওব্যাট কানাডা বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. ইরফান আজম জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আয়োজকরা বলেন, এই কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী ম্যারাথন ‘রান ফর ওয়াটার ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে গিয়ে ম্যারাথনটি শেষ হয়। আয়োজনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ২০০ জন তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মী। আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মাটির কলস বহন করে প্রতীকীভাবে পানির সংকট তুলে ধরেন। স্থানীয় যুব সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম এ আয়োজন করে, যেখানে সহযোগী হিসেবে ছিল একশনএইড বাংলাদেশসহ ৩০টির বেশি সংগঠন। ম্যারাথনে প্রথম স্থান অর্জন করেন গাবুরার জি.কে সাব্বির হোসেন, দ্বিতীয় হন বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন এবং তৃতীয় হন সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। এটি শুধু উন্নয়ন নয়, একটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়। তারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আয়োজকরা বলেন, এই কর্মসূচি শুধু ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পানির অধিকারের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকৌশলী ও পৌর প্রশাসকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল থেকে উপজেলা প্রকৌশলী এবং ৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ইউএনওর পদ খালি রয়েছে। একই সঙ্গে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও কার্যকর কোনো কর্মকর্তা না থাকায় পৌরসভার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে পাশের ঝিনাইগাতী উপজেলার ইউএনও দায়িত্ব পালন করলেও মাঠপর্যায়ে তার উপস্থিতি সীমিত। ফলে বিভিন্ন দপ্তরে ফাইল জমে থাকছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও গ্রামীণ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে কিংবা বন্ধ রয়েছে। বিল অনুমোদন না পাওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ স্থগিত রেখেছেন। নাগরিক সেবার ক্ষেত্রেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সের মতো সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে প্রতিদিন অফিসে ঘুরেও কোনো কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক শূন্যতা স্থানীয় উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত এসব পদে নিয়োগ না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।