নীলফামারীর ডোমারে ইজারাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ডোমার রেলগেট মোড়ে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী, ইজারাদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ডোমারের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। তারা পৌরসভার বৈধ টোল আদায়ে নিয়োজিত ইজারাদারদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে চাঁদা আদায় এবং টোল সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। বক্তারা বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে বৈধ টোল আদায় অব্যাহত রাখা জরুরি, কারণ ইজারাদাররা নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে সরকারিভাবে ইজারা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, গতকাল অটো ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান থেকে টোল আদায়ের প্রতিবাদে চালকরা সড়ক অবরোধ করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় টোল আদায়কারীদের একজন গণপিটুনির শিকার হন।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের আশ্বাসে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে একটি মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা মাদ্রাসার উন্নয়ন ও সহায়তার কথা বলে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। সন্দেহ হলে ব্যবসায়ীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। এতে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেফাজতে নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে কয়েকশ’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারদি মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জমি বিক্রি বা ব্যাংক ঋণ নিতে না পারায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিলের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগও করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা এডিসি মাহমুদা বেগমের অপসারণ দাবি করে স্লোগান দেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী পুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী জানায় এডিসি মাহমুদা বেগম তাদেরকে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। এই যন্থ্রণার জেরই আজকের এই অবস্থা। পরে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসনের সদ্য বিদায়ী একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মাহমুদার অপকর্মের জন্য ইতোপূর্বে দুইজন জেলা প্রশাসককে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। সে জেলা প্রশাসকের কাছে সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কানভারী করে নিজেকে ভালো রেখে বীরদর্পে দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নীলফামারী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকবৃন্দও সংহতি প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম মিরাত। বক্তব্য দেন নাজমুল ইসলাম কাজল, ইমদাদুল হক মিলন এবং প্রভাষক সোলায়মান আলীসহ অনেকে। বক্তারা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা বলেন, একজন শিক্ষক কর্মস্থলে নিরাপদ না থাকলে তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সকল শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।