ইরানকে লক্ষ্য করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইসরাইল-কে ব্যাপক অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অস্ত্র সরবরাহে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০ হাজারের বেশি বোমা, যার মোট মূল্য প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন যাতে দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হয়। এতে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের ১২ হাজার ভারী বোমার পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বোমা এবং ৫ হাজার ছোট ‘স্মল ডায়ামিটার’ বোমার সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব অস্ত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকায় মোট চুক্তির মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি -এর সমন্বয়ে -এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা। এর আগে গত জুনে -এর হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক ঘাঁটিগুলিতে এক সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) ইরান সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার একটি মূল লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি। আইআরজিসি জানায়, নিশানায় নিখুঁত আঘাত হানতে এমকিউ-৯ ড্রোন এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণের হ্যাঙ্গার এবং ইউ-২ গোয়েন্দা বিমানের সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি-তেও আইআরজিসি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে রাডার ব্যবস্থা, জ্বালানি মজুত কেন্দ্র এবং দুটি রানওয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের আঘাত আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানকে লক্ষ্য করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইসরাইল-কে ব্যাপক অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অস্ত্র সরবরাহে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০ হাজারের বেশি বোমা, যার মোট মূল্য প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন যাতে দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হয়। এতে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের ১২ হাজার ভারী বোমার পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বোমা এবং ৫ হাজার ছোট ‘স্মল ডায়ামিটার’ বোমার সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব অস্ত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকায় মোট চুক্তির মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি -এর সমন্বয়ে -এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা। এর আগে গত জুনে -এর হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যেই কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলযুদ্ধে নামে তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শুক্রবার (৬ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য স্থল আক্রমণ নিয়ে তেহরান কোনো উদ্বেগে নেই; বরং ইরান এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন স্থলবাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানি বাহিনী। সাক্ষাৎকারে আরাঘচি আরও জানান, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অতীত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সংঘাতেও তেহরান থেকে কোনো যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি; বরং প্রতিপক্ষই শেষ পর্যন্ত এমন প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছিল। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ অভিযানের মাধ্যমে এতে যোগ দেয়। আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, টানা সামরিক হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।