মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথে নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ইঙ্গিত দিয়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাভিত্তিক নতুন ফি আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি স্পষ্ট করেছেন—প্রচলিত ট্রানজিট ফি আরোপ না করলেও প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক আর্থিক কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন সংসদে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজসমূহকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ব সমন্বয় বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংযুক্ত সামরিক জাহাজের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথাও ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নীতির সঙ্গে সম্ভাব্য সাংঘর্ষিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বহিরাগত শক্তি—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ রাষ্ট্রের জাহাজগুলো নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে সীমিত সময়ের জন্য প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেয় তেহরান। এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে নতুন ফি আরোপের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্র আইনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় মাসাই–কংকং সড়কে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে প্রবেশ করেন এবং একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর তিনি সড়কে পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে চাপা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটিকে মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর আওতায় তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলেছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি ও পুঁজিবাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশাকে জোরদার করেছে। ইরান-এর এই নীতিগত সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেল-এর মূল্য দ্রুত কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যেখানে দিনটির শুরুতে তা ৯৮ ডলারের ওপরে অবস্থান করছিল। একইসঙ্গে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুড-এর দামেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান সংঘাত শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে; পরবর্তীতে তা মার্চ মাসে ১১৯ ডলার পর্যন্ত উন্নীত হয়। ফলে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসকে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান সূচক দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, আর লন্ডন ও নিউইয়র্কের বাজারেও লেনদেনের শুরুতেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি সাময়িক বাজার স্থিতিশীলতার বার্তা দিলেও, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বহাল থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে দেশটি হরমুজ প্রণালীর ওমান-সংলগ্ন অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধাহীন প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য একটি চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হলে এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালিতে নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজারো নাবিক উপসাগরীয় এলাকায় আটকে পড়েছে। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইস্যু এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তেহরানঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ওমান নিয়ন্ত্রিত জলসীমা ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলে শিথিলতা দেওয়া হতে পারে; তবে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাইন অপসারণ কিংবা নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক শর্ত পূরণের ওপরই এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।