মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের নৌ, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সময় ৭ মার্চ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে পরিচালিত অভিযানে মার্কিন বাহিনী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের ফলে ইরানের নৌবাহিনীর বহু যুদ্ধজাহাজ ও বিমান অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বহু রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করা এবং ভবিষ্যতে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানের কাছ থেকে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” প্রত্যাশার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ অভিযান চালিয়ে ‘এম/টি স্ট্রিম’ নামের ট্যাংকারটি থামিয়ে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি অবরোধ অমান্য করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি সর্বশেষ মালাক্কা প্রণালিতে দেখা যায়। ঘটনাটিকে এর আগে ‘জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন, দুই পরাশক্তির মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বেইজিং। সোমবার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি চীন কখনোই মেনে নেয় না এবং নিজেদের কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ পদক্ষেপে ইরান-সম্পর্কিত অভিযোগে চীনের একাধিক শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়, যাকে ‘অবৈধ তেল বাণিজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে বেইজিং এসব পদক্ষেপকে ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, একইসঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা অর্থনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-কেন্দ্রিক জ্বালানি বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের স্থবিরতার পর সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে ইরান, যা আঞ্চলিক আকাশপথ যোগাযোগে আংশিক স্বাভাবিকতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে ইরান আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করা হলেও আন্তর্জাতিক রুটে নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ওমানের মাসকাট এবং সৌদি আরবের মদিনাসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক রুট আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।