মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম উপকূলসংলগ্ন কুতুবদিয়া ও মহেশখালী জলসীমায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোঝাই মোট আটটি জাহাজ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এসব জাহাজ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে রওনা দিয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও নির্ধারিত সময়েই জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে কাতার থেকে পাঁচটি এলএনজিবাহী বড় কার্গো রয়েছে। অন্যদিকে ওমানের সোহার বন্দর থেকে এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ এসেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে কাঁচামাল এমইজি বহনকারী আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে জ্বালানিবাহী বেশ কিছু জাহাজ আটকে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত মজুত বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ঠেকাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রির ব্যবস্থা চালু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত আনার নিয়ম আরও উদার করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন দেশে আনা যাবে। এর আগে সীমা ছিল ১০ কোটি টাকা। এই সিদ্ধান্ত মূলত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। ব্যাংকগুলো নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পদ্ধতি—নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV), মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (DCF)—অনুসরণ করে লেনদেন যাচাই করবে। ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি অনুমোদন দেবে, এবং এক কোটি টাকার লেনদেনের জন্য স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে, কোনো অসংগতি না থাকলে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হলে আবেদন তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। এছাড়া সম্পন্ন লেনদেনের তথ্য ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। এই প্রজ্ঞাপন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্য বহন করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে টানা ছয় দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংস্থাটি ভরিপ্রতি ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে, যা বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দর হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ধারাবাহিকভাবে একাধিক দফায় দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি মূল্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে দুই দফায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং চলতি সপ্তাহে আরও একাধিক দফায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ দফা স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় হয়েছে—এর মধ্যে ২৪ দফায় দাম বৃদ্ধি এবং ১৩ দফায় হ্রাস করা হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দর ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যৎ মূল্যপ্রবণতা নির্ধারিত হবে।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে পুনরায় সমন্বয় আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে এ মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বাজুসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর) স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি সংযোজিত হবে। গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।