রানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান টানা ১৭ দিনে পৌঁছেছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে কৌশলগতভাবে ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনীতির সমর্থন জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাতেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প সৌদি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় রয়েছেন এবং বিশেষভাবে যুবরাজের পরামর্শে ইরানিদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখার কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সৌদি প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর প্রাক্তন নির্দেশনা অনুসারে শত্রুর মূল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও এখন পুনরায় কাজে লাগানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করছে।
রানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান টানা ১৭ দিনে পৌঁছেছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে কৌশলগতভাবে ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনীতির সমর্থন জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাতেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প সৌদি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় রয়েছেন এবং বিশেষভাবে যুবরাজের পরামর্শে ইরানিদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখার কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সৌদি প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর প্রাক্তন নির্দেশনা অনুসারে শত্রুর মূল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও এখন পুনরায় কাজে লাগানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করছে।
নির্বাসনে থাকা ইরানের প্রাক্তন ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি জানিয়েছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তেহরানের জন্য একটি রূপান্তর নীতি প্রস্তুত করছেন, যাতে দেশটিতে শাসন ব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। পাহলভি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে, যারা তার নেতৃত্বে সরকারের কার্যক্রম চালাবে। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তর নিশ্চিত করতে তিনি সরাসরি সহায়তা করবেন এবং শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্র পতনের পর থেকে পাহলভি নির্বাসনে আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজেকে বিরোধী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইরানের রাজনৈতিক সংকট ও চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পারস্য উপসাগর অঞ্চলের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; বরং যেসব দেশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরও যৌথভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান কার্যত প্রণালির কার্যক্রম সীমিত করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং অতিরিক্ত মেরিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।