বরিশাল নগরীতে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দালালকে রোগীদের প্রতারণার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সদর রোড থেকে আটক করা মাসুম হাওলাদার নামের ওই দালালকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে সাজা দেন।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বিভিন্ন প্রবেশদ্বার—নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাট ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড—থেকে অসুস্থ মানুষদের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ধরে এনে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এতে রিক্সা ও অটো চালকরা দালালদের সঙ্গে অংশীদার হয়ে মোটা কমিশন অর্জন করত।
এ চক্রের মাধ্যমে গ্রামীণ রোগীদের কাছ থেকে ভূয়া টেস্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার সদর রোডস্থ বিবির পুকুরপারে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিকের দালাল মাসুম হাওলাদারকে স্থানীয়রা আটক করে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার এসআই রুহুল আমীন তাকে থানায় নিয়ে যান।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলার বিচার শেষে মাসুম হাওলাদারকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে স্বাক্ষী হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে, যিনি নিজেও অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর প্রধান ইয়ার আলী (৩৫) গ্রেফতার হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ইয়ার আলী শংকরপুর গ্রামের জব্বার আলী তালুকদারের ছেলে এবং এলাকায় ‘ইয়ার-বাহার’ ডাকাত বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত। কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে র্যাব ও পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এসময় স্থানীয় আলমগীরের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, দুটি ওয়াকিটকি এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন জানান, ইয়ার আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার তৎপরতা বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানায় এনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পুলিশ জানায়, ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাতীয় পার্টির নেতা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানা-র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। ডিবি প্রধান জানান, সোমবার রাতের দিকে বারিধারা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকায় ৫টি মামলা রয়েছে, মোট ১১টি মামলা। প্রাথমিকভাবে তাকে পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগেও একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন। ২০০৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এক-এগারোর সময় জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকায় ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ খাতেও যুক্ত হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জামালপুরের ইসলামপুরে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রাসেল মিয়া (২২) নামে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া গ্রামের ছত্তরহাজির মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে স্থানীয় যুবসমাজ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১০টার দিকে রাসেল মিয়া মাদক বিক্রির চেষ্টা করলে যুবকেরা তাকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে তাকে থানায় নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গোয়ালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে স্থানীয়রা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইসলামপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।