গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় তাৎপর্যপূর্ণ ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে এসব হামলার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও কর্মী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই ধরনের হামলার খবর এসেছে বাহরাইনের ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ স্থাপনাতেও।
কুয়েতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলার ফলে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
এদিকে সৌদি আরব দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা অন্তত ১০টি ড্রোন প্রতিরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখিত ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় তাৎপর্যপূর্ণ ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে এসব হামলার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও কর্মী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই ধরনের হামলার খবর এসেছে বাহরাইনের ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ স্থাপনাতেও। কুয়েতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলার ফলে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এদিকে সৌদি আরব দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা অন্তত ১০টি ড্রোন প্রতিরোধ করা হয়েছে। উল্লেখিত ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দফার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে শনিবার (২৮ মার্চ) সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত বছরের গণবিক্ষোভ দমন করতে পুলিশের প্রয়োগ করা মারাত্মক ক্র্যাকডাউনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা। সেই আন্দোলনে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছিল, বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, গ্রেফতারি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত কমিশন সাবেক নেতা ওলিসহ কয়েকজনকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’র দায়ে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছিল। এর আগে ওলি কমিশনের ফলাফল নাকচ করে দাবী করেছিলেন, এটি তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পর এই গ্রেফতারি অভিযান দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র করেছে। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠার অংশ। কাঠমান্ডুসহ প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রশাসন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রদর্শন করতে চায়। নেপালের সাধারণ জনগণ এখন অপেক্ষায়, এই ঘটনার আইনি নিষ্পত্তি কতটা সুষ্ঠু হবে তা দেখার জন্য।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী তীব্র সংঘাত নিরসনে হোয়াইট হাউসের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে তেহরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি কেবল তাদের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী কার্যকর হবে। তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে মূলত ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে হামলার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রধান শর্ত জোর করা হয়েছে—হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ও আইনি অধিকার স্বীকার, ইরান ও মিত্র প্রক্সি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনরায় হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরানো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হওয়া মানেই সরাসরি আলোচনার অর্থ নয়। তেহরানের নীতি হলো ‘প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া’। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আলোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি আপাতত স্থগিত রেখেছেন। কিন্তু ইরান যদি সামরিক পরাজয় বোঝে না, যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। ইসরায়েলও হঠাৎ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু পুনর্গঠন করেছে এবং সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে ব্রিটেন হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে অভিহিত করেছেন। সূত্র মতে, ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার সৈন্য নিহত ও আহত হয়েছেন। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভুল পদক্ষেপ হলে তারা বাহরাইন ও আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকা দখল করতে পারে এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।