মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যা দেশটিকে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পর ইরানবিরোধী অভিযানে জড়িত প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে সামনে এনেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও লক্ষ্যবস্তু ছিল। হামলার সময়কাল নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও জানা গেছে, সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়ের আশপাশে সংঘটিত হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, হামলার পর ইরান ‘অজ্ঞাত শত্রুর’ আক্রমণের অভিযোগ তুলে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে পুরো সামরিক অভিযানে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আবুধাবি। একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখালেও আমিরাতের অবস্থান ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে পাল্টা হুঁশিয়ারি জারি করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তামিলনাড়ুর সংবেদনশীল জনসমাগম এলাকার নিকটবর্তী ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা এসব দোকান দুই সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজ্য মালিকানাধীন টাসম্যাক-এর মোট ৪,৭৬৫টি আউটলেট পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৬টি উপাসনালয়, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থিত। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দোকানগুলো বন্ধ করতে হবে। এতে রাজ্যের মোট টাসম্যাক আউটলেটের প্রায় ১৫ শতাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দল গঠনের পর থেকেই টাসম্যাক সংস্কারকে ইস্যু করে আসছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। ফলে এই সিদ্ধান্তকে তার প্রশাসনিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি নৌযানকে তেহরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে। নতুন এই নীতিকে ইরান ‘সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নামে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনবিষয়ক জার্নাল লয়েড’স লিস্ট জানিয়েছে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে প্রতিটি জাহাজকে ৪০টিরও বেশি তথ্যসম্বলিত ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ ফর্ম জমা দিতে হবে। এই ফরমে জাহাজের মালিকানা, বিমা, ক্রু সদস্যদের পরিচয়, পরিবাহিত পণ্যের বিবরণ, যাত্রার সূচনাবিন্দু ও গন্তব্যসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিলে তবেই জাহাজ চলাচলের ছাড়পত্র মিলবে। ফরমে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট নৌযান কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, তাদের জন্য এই রুট ব্যবহার আরও কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে হলে সব নৌযানকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেই চলতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণনীতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তেলের দামের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের যেকোনো ভবিষ্যৎ ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাব হবে ভয়াবহ, বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। রোববার (১০ মে) রাওয়ালপিন্ডির জিএইচকিউতে ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের পরিণতি সীমিত থাকবে না, বরং তা হবে সুদূরপ্রসারী ও বেদনাদায়ক। সেনাপ্রধান দাবি করেন, গত বছরের সংঘাত ছিল “মারকা-ই-হক” বা সত্যের যুদ্ধ, যেখানে পাকিস্তান জাতীয় ঐক্য ও সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং দুই ভিন্ন মতাদর্শের নির্ধারক লড়াই ছিল। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আসিম মুনির বলেন, বিভিন্ন সময়ে ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, তবে প্রতিবারই ইসলামাবাদ সেই কৌশল ব্যর্থ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী কখনো শক্তির চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। অনুষ্ঠানে তিনি সংঘাতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও স্মরণ করেন।