ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় চীন-কে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। বেইজিংয়ে শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
ল্যাভরভ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া চীনের জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি পূরণে সক্ষম এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার জন্য মস্কো প্রস্তুত। বিশেষ করে ইরান-নির্ভর জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চীনের শিল্প ও অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা লাঘবে এই প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া-চীন কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমান বৈশ্বিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অটুট রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল জোট হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চীনের জ্বালানি সরবরাহে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প সরবরাহ প্রস্তাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তীতে স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। সরকারি শর্ত অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং নির্ভরযোগ্য অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুনের শেষ পর্যন্ত চলবে। নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তকে শ্রমঘাটতি পূরণ, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে মাদ্রিদ। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতে অভিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার উল্লেখ করেছে। তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এতে ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ইউরোপের অভিবাসন বিতর্কের মধ্যে স্পেনের এই পদক্ষেপকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত নীতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ইতালি সরকার ইসরায়েল-এর সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির ভেরোনা শহরে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র মতে, ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত উক্ত চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়, প্রযুক্তিগত গবেষণা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি নিয়মিত মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন আলাপে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যর্থ কূটনৈতিক সংলাপের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইরান পক্ষ আলোচনায় অংশগ্রহণে সদিচ্ছা প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অনমনীয় ও অসমঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি-কেন্দ্রিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।