দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে; গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গজনিত কারণে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি শিশু, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৫ শিশু, ঢাকায় ৩, সিলেটে ২ এবং রাজশাহীতে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ১ হাজার ৫৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ৬০৭ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৭৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৮১ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, উল্লিখিত সময়সীমায় ৪ হাজার ৪৬০ শিশুর দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত দেড় মাসে সারা দেশে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৪২ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত এবং ২০৯ জনের ক্ষেত্রে উপসর্গভিত্তিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবনের মধ্যেই স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, জানিয়েছে শিগগিরই বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে মেঘের আধিক্য বাড়ছে, যা আগামী কয়েক দিনে তাপপ্রবাহ প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। আইনসম্মত সরকারি পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিচ্ছিন্ন এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। বর্তমানে দেশের কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজমান থাকলেও তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বর্ধিত সময়জুড়ে মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা-এর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট টিউব ফেটে ফের বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়। বয়লার ঠান্ডা হয়ে মেরামত করতে আনুমানিক ৫–৬ দিন সময় লাগবে। এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে বয়লার পাইপ ফেটে গেলে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টায় এটি পুনরায় চালু করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, টিউব ফাটার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে এবং মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হবে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উত্তরের পার্বতীপুরসহ অন্তত ৮ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেছেন, পূর্বধলায় একটি ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকালে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন তিনি এবং এতে তার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। তার দাবি, মোটরসাইকেলে আসা ১৫–২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তিনি পাশের মসজিদে আশ্রয় নিলে মুসল্লিরা দরজা বন্ধ করে তাকে রক্ষা করেন এবং পরে পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বিষয়টিকে “রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে পূর্বধলা থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়া সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এমপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ না দিলেও তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্ব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।