সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে ধানক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষতি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতে একাধিক হাওরে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২ মে) ভোর থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদী-এর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের মতে, জামে মসজিদ সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ প্রথমে উপচে পড়ে, পরে দ্রুত ভেঙে গিয়ে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে।
ফলে মুহূর্তের মধ্যেই বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত প্লাবিত হয় এবং মাঠে থাকা কৃষকরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, বোয়ালা হাওরে মোট ৫৭৪ হেক্টর বোরো ধানের মধ্যে অধিকাংশ ইতোমধ্যে কাটা শেষ হলেও অন্তত ৮৪ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আকস্মিক পানির চাপ ও বাঁধের দুর্বল অংশে ভাঙনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও স্থানীয়রা উপস্থিত থাকলেও পানির প্রবল স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, কৃষকদের অভিযোগ—নির্মাণ ত্রুটি ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বারবার হাওর রক্ষা বাঁধ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, যা ফসল নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে ধানক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষতি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতে একাধিক হাওরে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২ মে) ভোর থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমেশ্বরী নদী-এর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের মতে, জামে মসজিদ সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ প্রথমে উপচে পড়ে, পরে দ্রুত ভেঙে গিয়ে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত প্লাবিত হয় এবং মাঠে থাকা কৃষকরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, বোয়ালা হাওরে মোট ৫৭৪ হেক্টর বোরো ধানের মধ্যে অধিকাংশ ইতোমধ্যে কাটা শেষ হলেও অন্তত ৮৪ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আকস্মিক পানির চাপ ও বাঁধের দুর্বল অংশে ভাঙনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও স্থানীয়রা উপস্থিত থাকলেও পানির প্রবল স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, কৃষকদের অভিযোগ—নির্মাণ ত্রুটি ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বারবার হাওর রক্ষা বাঁধ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, যা ফসল নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চরকালী এলাকায় এক অসহায় বিধবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা ও দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মনিরুল ইসলামের মেয়ে আয়েশা বেগম পৈত্রিক ও দলিলসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৭১ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জমির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে তা দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা নানা সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। সমাধানের আশায় আয়েশা বেগম একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে জানান। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল তিনি পরিবারসহ বসবাসের জন্য জমির ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েক দফা ওই ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আয়েশা বেগম ও তার ছেলে সোহাগ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীরা আয়েশা বেগমের পুরোনো বাড়ির একটি কক্ষ তালা, টিন ও কাঠ দিয়ে আটকে দিয়ে তাদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী আয়েশা বেগম ও এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দরিদ্র জেলের জন্য সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত গরু না পাওয়ার ঘটনায় ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দেওয়ায় তালিকাভুক্ত জেলে তারাপদ বিশ্বাস বরাদ্দের গরু থেকে বঞ্চিত হন এবং ওই গরু পরবর্তীতে অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর ও বিক্রি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ফকিরহাট উপজেলার জেলেদের মাঝে গরু (বখনা বাছুর) বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত দরিদ্র জেলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে একটি গরু বরাদ্দ থাকলেও সেটি তাকে দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী তারাপদ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দকৃত গরু দেওয়ার শর্তে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গরু অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি বিক্রি করা হয়েছে। তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান পাননি। বরং অভিযুক্ত পক্ষের মাধ্যমে তাদের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে শ্রীবাস বৈরাগী জানান, তিনি অফিস খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু গ্রহণ করেন, পরে জানতে পারেন সেটি তারাপদ বিশ্বাসের নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযুক্ত স্থানীয় ব্যক্তি মোহিত বালা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে দায়ী নন এবং গরু বরাদ্দ ও বিতরণের সিদ্ধান্ত মৎস্য অফিস থেকেই হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, প্রকৃত জেলে উপস্থিত না থাকায় কার্ড যাচাই করে অন্য একজনকে গরু দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের পর মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।